চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যৌথ আয়োজনের টুর্নামেন্ট হলেও গ্রুপ পর্বের পর যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ম্যাচ নেই। ফলে আসরের বাকি অংশের জন্য দলগুলোর খেলা হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজেই। সেখানেও আবার সুপার এইটের ম্যাচ খেলতে দলগুলোকে কম সময়ের মধ্যেই ছুটতে হচ্ছে এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে। এদিকে বিশ্বকাপ বা অন্য বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে গেলে অনেক দেশই নিজেদের রান্নাবান্নার ব্যবস্থা নিজেরাই করে থাকেন। খাবারের মান বজায় রাখা, নিজেদের সংস্কৃতির খাবার খাওয়া সহ বিভিন্ন কারণে নিজস্ব বাবুর্চি নিয়েও যায় অনেক দল। তবে আফগানিস্তান দল বাবুর্চি দিয়ে নয়, নিজেদের খাবার রান্না করছেন নিজেরাই।
এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে আফগানিস্তানের সবগুলো ম্যাচই হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে সবগুলো ম্যাচ খেলতে ক্যারিবীয় অঞ্চলের এক দেশ থেকে আরেক দেশে দৌড়াতে হয়েছে রশিদ খানদের। আর সেখানে হালাল মাংস অপ্রতুল হওয়ায় অনেক সময় নিজেদেরকেই রান্না করে খেতে হচ্ছে আফগান ক্রিকেটারদের। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে এমন তথ্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ক্রিকেটার পিটিআইকে বলেছেন, ‘আমাদের হোটেলে হালাল মাংসের ব্যবস্থা নেই। কখনো আমরা নিজেরাই রান্না করছি, কখনো বাইরে গিয়ে খেয়ে আসছি। সেন্ট লুসিয়ায় (হালাল মাংস) পেয়েছিলাম। কিন্তু সব ভেন্যুতে এ ব্যবস্থা নেই। এক বন্ধু আমাদের জিনিসপত্র ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, যাতে আমরা নিজেদের মতো করে রান্না করতে পারি।’
ম্যাচ খেলতে এক দেশ থেকে আরেক দেশে দৌড়াতে হচ্ছে আফগান ক্রিকেট দলকে। এ জন্য রশিদ খানদের হালাল খাবার জোগাড় করতেও বেগ পেতে হচ্ছে। এক ক্রিকেটার জানিয়েছেন, ‘ফ্লাইট ও অনুশীলন সূচি ঠিকঠাক থাকছে না। প্রায়ই শেষ মুহূর্তে গিয়ে জানতে পারি। আমরা বুঝতে পারছি, আয়োজকেরা লজিস্টিক্যাল দিকগুলো সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে ক্যারিবিয়ানে এ–সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জটা বেশি।’ এদিকে ব্যস্ত সূচি, নিজেদের খাবার নিজেরা রান্না করার পর সেমিফাইনালের লক্ষ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান। শেষ আটে প্রথম ম্যাচে হারলেও আজ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে রশিদ খানের দল।