মিচেল স্টার্ক কোথায় যাবেন? কলকাতায় না গুজরাটে? ২০ মিনিট ধরে আইপিএল নিলামে সেটারই লড়াই চলল। কখনো মনে হয়েছে স্টার্ক যাচ্ছেন কলকাতায়, কখনো গুজরাটে। কলকাতার গৌতম গম্ভীর ও গুজরাটের আশিস নেহরার এই দর-কষাকষিতে বাড়ছিল স্টার্কের মূল্যও।
শেষ পর্যন্ত আইপিএলের নিলামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৪ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে অস্ট্রেলিয়ার পেসার স্টার্ক গেছেন কলকাতায়। অথচ ২ ঘণ্টা আগেও নতুন ইতিহাস গড়েছিলেন স্টার্কের অস্ট্রেলিয়ান সতীর্থ প্যাট কামিন্স। ২০ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলে নেওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন এর চেয়ে বেশি দাম এবারের নিলামে আর হয়তো উঠবে না। স্টার্ক অনেক দিন ধরেই স্রোতের বিপরীতেই চলছিলেন।
যেখানে আইপিএলে খেলা এখন সব ক্রিকেটারের স্বপ্ন, সেখানে স্টার্ক আইপিএলের মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জনের সুযোগ বারবার দূরে ঠেলে দিয়েছেন। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে খেলেছিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে। ২০১৮ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে কিনলেও ডান পায়ের পেশিতে ব্যথার কথা জানিয়ে ভারতে যাননি।
অনেক দিন পর স্টার্ক আইপিএলে কেন ফিরছেন সেই ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন গত সেপ্টেম্বরে। উইলো টক ক্রিকেট পডকাস্টে স্টার্ক বলেছিলেন, ‘দেখুন, আট বছর হয়ে গেছে। আমি অবশ্যই আগামী বছর আইপিএলে ফিরব। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্যও একটা ভালো প্রস্তুতি হবে। চলতি বছরের শীতকালীন মৌসুমের সঙ্গে যদি তুলনা করি, তাহলে পরের মৌসুমে এ সময়ে খুব একটা খেলাও নেই।
তাই আমি মনে করছি, আইপিএলে নাম লেখানোর জন্য দারুণ সময় এটা।’এর আগে আইপিএলের ইতিহাসেরই সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হয়ে গিয়েছিলেন কামিন্স।কামিন্স ভেঙে দিয়েছিলেন গত মৌসুমে স্যাম কারেনের ১৮ কোটি ৫০ লাখ রুপির রেকর্ড। রেকর্ড দামে ইংলিশ অলরাউন্ডারকে কিনেছিল পাঞ্জাব কিংস।
এরপর কামিন্সের রেকর্ড ভাঙে স্টার্কের হাতে।এ ছাড়া আজ ১৪ কোটি রুপিতে কিউই অলরাউন্ডার ড্যারিল মিচেলকে কিনেছে চেন্নাই সুপার কিংস। ক্যারিবিয়ান পেসার আলজারি জোসেফকে ১১ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স।
হর্শাল প্যাটেলকে ১১ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে পাঞ্জাব কিংস, ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েলকে ৭ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে রাজস্থান রয়্যালস এবং বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচসেরা অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেডকে ৬ কোটি ৮০ লাখ রুপিতে কিনেছে হায়দরাবাদ।