আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলে দিলেন মেসি।
চোখের জল, হাজার হাজার মানুষের গগনবিদারী গর্জন এবং ২১ বছরের এক মহাকাব্যিক রূপকথার ইতি টেনে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। বুয়েনস এইরেসের ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিরুদ্ধে এক বিদায়ী প্রদর্শনী ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানের এক একতরফা জয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের রাজকীয় মঞ্চ ছাড়েন ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। নিজের শেষ ম্যাচে ১টি গোল করার পাশাপাশি বাকি দুটি গোলেও প্রত্যক্ষ অবদান রেখে দেশকে এক আবেগঘন রাতে জয় উপহার দেন তিনি।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) আয়োজিত এই স্মারক ম্যাচে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার ভক্তের চোখের জলে শেষ হয় আন্তর্জাতিক ফুটবলে 'মেসি যুগের'। দ্বিতীয়ার্ধে নিকোলাস ওতামেন্দির প্রথম গোলটিতে নিখুঁত অ্যাসিস্ট করার পর উদীয়মান তারকা নিকো পাজকে দিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করান মেসি। এরপর ম্যাচের শেষভাগে পেনাল্টি থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ১২৬তম গোলটি করে স্টেডিয়ামজুড়ে তৈরি করেন এক মহাকাব্যিক সেলিব্রেশন। খেলা শেষে অশ্রুসজল চোখে সতীর্থদের বিদায়ী কোলাকুলি আর দর্শকদের করতালির মধ্য দিয়ে ইতি ঘটে ২০০৫ সাল থেকে শুরু হওয়া তাঁর দীর্ঘ ২১ বছরের দীর্ঘ ও গৌরবময় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের।
বিদায়ী ম্যাচের শুরু থেকেই স্টেডিয়ামের আবহ ছিল আবেগঘন। ম্যাচ শুরুর আগেই টিম বাসে বসে জানালার ওপারে ভক্তদের ভিড় দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই মহাতারকা। মাঠে নামার পর জাতীয় সংগীত চলাকালেও কান্নায় বুজে আসে তাঁর গলা। শৈশবের ক্লাব গ্রান্দোলি, প্রথমা দাদি সেলিয়ার হাত ধরে ফুটবল যাত্রা শুরু এবং পরবর্তীতে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি কাটিয়ে উঠে বিশ্বজয়ের স্মৃতিগুলো যেন এক পলকে ভেসে ওঠে স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিন ও দর্শকদের আবেগে। ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় প্রতিপক্ষ বেনিনের খেলোয়াড়েরা সারিবদ্ধভাবে এসে এই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধায় জড়িয়ে ধরলে কয়েক মুহূর্তের জন্য খেলা থমকে দাঁড়ায়।
আর্জেন্টাইন ফুটবলের সবচেয়ে অন্ধকার সময়গুলোকে পাশ কাটিয়ে দেশকে বিশ্বকাপের ট্রফি এনে দেওয়া এই অধিনায়কের যাত্রাটা সহজ ছিল না। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর তীব্র সমালোচনায় ক্ষোভে-অভিমানে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তবে ফিরে এসে ৩৫ বছর বয়সে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয় এবং পরবর্তীতে ৩৭ বছর বয়সে দ্বিতীয় কোপা আমেরিকা এনে দিয়ে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দেন। এমনকি ৩৯ বছরে এসে আন্তর্জাতিক আঙিনায় নিজের শেষ অ্যাসিস্ট ও গোল দিয়ে ফুটবলের মহাকাব্যে বিদায়ের চূড়ান্ত রূপরেখা এঁকে দিলেন মেসি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মেসি। নিজের দীর্ঘ পেশাদার ক্যারিয়ারে পরিবার ও বাবার অবদানের কথা স্মরণ করে আবেগঘন কণ্ঠে এই মহাতারকা বলেন, "আমি কেবল দেশের জন্য ফুটবলটা খেলতে চেয়েছিলাম। আজ আমার শৈশবের সেই স্বপ্ন ও সফর শেষ হলো। তবে ভালোবাসার এই জার্সি এবং আর্জেন্টিনার মানুষ চিরকাল আমার হৃদয়ে থাকবে।" বিশ্ব ফুটবলের বিশ্লেষকদের মতে, মেসির বিদায়ের মাধ্যমে শুধু একজন খেলোয়াড়ের অবসর ঘটেনি, বরং বিশ্ব ফুটবলে নিশ্চিতভাবেই শেষ হলো একটি স্বর্ণালী যুগের।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
