বয়স জালিয়াতির গুরুতর অপরাধে ভারতের সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী বাঁহাতি পেসার রবি কুমার ও লেগ স্পিনার রোহিত যাদবসহ মোট ৬৫ জন ক্রিকেটারকে তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)। প্রাক-মৌসুম নথিপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক এই ক্রিকেটারের বয়সের নথিতে ব্যাপক গরমিল ধরা পড়ার পর সিএবি ও ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে আগামী ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে এদের সব পরিসংখ্যান অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম ২২ বছর বয়সেও বয়সভিত্তিক খেলা রবি কুমার, যার ক্ষেত্রে ৪০ মাসেরও বেশি বয়সের গরমিল পেয়েছে সিএবি। ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এই পেসার। অন্যদিকে, গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফর করা ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তরুণ লেগ স্পিনার রোহিত যাদবের ক্ষেত্রে ২৭ মাসের গরমিল ধরা পড়েছে; যেখানে তার ২০০৭, ২০০৯ ও ২০১০ সালের তিনটি ভিন্ন জন্মসনদ পাওয়া গেছে।
অসঙ্গতি ধরা পড়ার পরপরই সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া যুব সিরিজের দল থেকে রোহিতকে বাদ দেওয়া হয়। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, বিসিসিআই-এর অধিভুক্ত সব রাজ্য সংস্থাকে এই নিষেধাজ্ঞার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
ভারতে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অনিয়ম রুখতে ২০২০ সালে একটি সাধারণ ক্ষমা প্রকল্প চালু করেছিল বিসিসিআই। তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী নিজ থেকে স্বেচ্ছায় সঠিক বয়স স্বীকার করলে খেলোয়াড়রা শাস্তি এড়াতে পারতেন, কিন্তু তথ্য গোপনের বিষয়টি তদন্তে ধরা পড়লে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার বিধান করা হয়।
বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে স্বচ্ছতা ফেরাতে জন্মনিবন্ধন সনদের পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের শিক্ষাগত যোগ্যতার একাধিক নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে বিসিসিআই। ভারতজুড়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে কাঠামোগত এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে তরুণ খেলোয়াড়দের ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।