আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে জমকালো আসর বিশ্বকাপের আলোকউজ্জ্বল মঞ্চের অন্তরালে ঝুলছিল এক ভয়াবহ নিরাপত্তাশঙ্কা, যেখানে আর্জেন্টিনা তারকা লিওনেল মেসিকে ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া’ এবং ফরাসি রেফারিকে হাজার হাজার প্রাণনাশের হুমকিসহ বহু তারকা ফুটবলার ও কোচদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল লাগাতার হয়রানি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্রের (আইপিসিসি) গোপন নথির বরাত দিয়ে স্পেনের অনুসন্ধানী মাধ্যম ‘প্রেনসা ইবেরিকা’র ফাঁস করা এক প্রতিবেদনে এসব হাড়হিম করা তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফাঁস হওয়া নথি সূত্রে জানা যায়, বিশ্বকাপের পুরো আসরজুড়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর হুমকির মুখে পড়েছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। ডালাসে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের দিন এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি হাতে তৈরি বোমা ও এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে মেসি ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে পুলিশকে ফোন করেন। এ ছাড়া আটলান্টায় মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এক ব্যক্তি নিজের শরীরে চারটা বোমা বেঁধে মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামের ডাস্টবিনে বোমা রাখার আতঙ্কে পুলিশ ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে পুরো ময়দানে ব্যাপক তল্লাশি চালাতে হয়।
এদিকে পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও টুর্নামেন্টজুড়ে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও পিছু নেওয়ার শিকার হন। ১৬ জুন হিউস্টনে পর্তুগাল দলের হোটেল থেকে রোনালদোর ব্যক্তিগত তথ্যের খোঁজে থাকা এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, কানাডার টরন্টো ও মিয়ামিতে সমর্থক ও এক দর্শকের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে রোনালদোর কাছাকাছি চলে যাওয়ার ঘটনায় খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে।
মাঠের ভুল বা পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করে খেলোয়াড়দের পরিবারকেও চরম মূল্যের হুমকি সহ্য করতে হয়েছে। প্যারাগুয়েতে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের প্রতিকৃতি পোড়ানো হয় এবং পেনাল্টি ও গোলের সুযোগ মিসের জন্য নরওয়ের আলেকজান্ডার সরলথ ও কলম্বিয়ার জামিনটন ক্যাম্পাজকে মেরে ফেলার বার্তা দেওয়া হয়। চরম বিতর্কের মুখে দক্ষিণ কোরিয়া দলকে বিমানবন্দর পর্যন্ত কড়া পুলিশ প্রহরায় পৌঁছে দিতে হয়েছিল।
তবে হুমকির সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ার, যাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে একা মিসরীয় সমর্থকদের থেকেই প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। ম্যাচটির ভিএআর রেফারি উইলি দেলাজোদকেও একই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়, যার পর ফ্রান্সে অবস্থানরত তাঁদের বাড়ি ও স্বজনদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ পুলিশ মোতায়েন করতে বাধ্য হয় স্থানীয় প্রশাসন। চরম বৈশ্বিক উন্মাদনার মধ্যেও ফুটবলের পেছনে ওত পেতে থাকা এসব উগ্র সহিংস হুমকির তথ্য ফাঁস হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ও বিশ্বনেতাদের মধ্যে ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
