নাটকীয়তায় ঠাসা চরম উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল আর্জেন্টিনা। পর্তুগালের লিসবনে আজ অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের জাদুকরী প্রত্যাবর্তনে জয় ছিনিয়ে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে অধিনায়ক লিওনেল মেসির মাপা ক্রস থেকে লাওতারো মার্তিনেজের চোখ ধাঁধানো হেডার ইংলিশদের স্বপ্ন ভেঙে আর্জেন্টিনাকে উল্লাসে ভাসায়।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ফুটবলের নান্দনিকতার চেয়ে মাঠের চরম উত্তেজনা ও একের পর এক ফাউলই প্রাধান্য পেয়েছে। প্রথমার্ধে দুই দল মিলে মোট ১৯টি ফাউল করে (আর্জেন্টিনা ১২টি, ইংল্যান্ড ৭টি), যার ফলে ১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলমুখে একটিও শট নিতে পারেনি। তবে ৫৫ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ইংল্যান্ডের অ্যান্থনি গর্ডন। মরগান রজার্সের চমৎকার ক্রস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে থমাস টুখেলের দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
পিছিয়ে পড়ে লিওনেল স্কালোনি দলে একের পর এক পরিবর্তন এনে অল-আউট আক্রমণে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সমতায় ফিরতে মরিয়া আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ রুখে দিচ্ছিলেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড ও ডিফেন্ডার জেড স্পেনস। তবে ৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এনজো ফার্নান্দেজের এক দুর্দান্ত দূরপাল্লার বুলেট গতির শট ইংল্যান্ডের জাল কাঁপিয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-১ সমতায় ফেরায়।
ম্যাচের ধারাবর্ণনাকারী ও বিশ্লেষকদের মতে, "৭৬ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে মনে হচ্ছিল ভাগ্য আজ আর্জেন্টিনার পক্ষে নেই। কিন্তু যোগ করা সময়ে লিওনেল মেসির সেই অতিমানবীয় ক্রস এবং লাওতারোর নিখুঁত হেডার প্রমাণ করল কেন তারা বিশ্বসেরা।"
টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচ জয়ের পর লিসবনের গ্যালারিতে এখন আকাশি-সাদা উৎসবের জোয়ার। নাটকীয় এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি ফুটবলের চিরবৈরী প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করল।