বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ২০৩০ সালের শতবর্ষী আসরকে ৬৪ দলে রূপ দেওয়ার নতুন প্রস্তাবনা নিয়ে কথা বলছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: রয়টার্স
বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের জমকালো আসর আয়োজনের মধ্যেই ফুটবলের মহাযজ্ঞকে আরও বড় করার আভাস দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৪ করার একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব খতিয়ে ও পরীক্ষা করে দেখার ঘোষণা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে শতবর্ষের এই বিশেষ বিশ্বকাপকে আরও বৈশ্বিক রূপ দেওয়ার এমন উদ্যোগের বিপরীতে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ফুটবল কর্তাদের একাংশ তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছেন। সমালোচকদের মতে, দল সংখ্যা অতিরিক্ত বাড়ানো হলে বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্ব ও মূল আসরের আভিজাত্য দুই-ই চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।
উইন্ডো বড় করার এই দূরদর্শী পরিকল্পনাটি প্রথম উত্থাপন করেন উরুগুয়ের ফুটবল কর্মকর্তা ইগনাসিও আলোনসো এবং পরবর্তীতে গত নভেম্বরে এতে জোরালো সমর্থন দেন কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজ। ২০৩০ বিশ্বকাপ যেহেতু শতবর্ষের বিশেষ আসর, তাই বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ছয়টি দেশে (মরক্কো, স্পেন, পর্তুগালসহ উদ্বোধনী তিন ম্যাচ উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে) এটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদি প্রস্তাবটি পাস হয়ে ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ায়। তবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো শুধু একটি করে উদ্বোধনী ম্যাচ নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ গ্রুপ পর্বের ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, "৬৪ দলের বিশ্বকাপ অবশ্যই এমন একটি বিষয়, যা এই বিশ্বকাপের পর সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পরীক্ষা ও বিশদ আলোচনা করা হবে। বিশ্বকাপ শুধু ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য। প্রত্যেক দেশেরই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকা উচিত। ছোট দেশগুলোকে সুযোগ না দিলে ফুটবলের বৈশ্বিক উন্নতির প্রেরণাও কমে যাবে।"
ইনফান্তিনো ২০২৬ সালের ৪৮ দলের আসরকে ‘শতভাগ সফল’ দাবি করলেও বিশ্ব ফুটবলের প্রভাবশালী অংশ এই মেগা সম্প্রসারণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন এই প্রস্তাবকে সরাসরি একটি ‘খারাপ ধারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানিও সুর মিলিয়ে বলেছেন, "এটি মোটেও ভালো ধারণা নয়।" ফুটবল বিশ্লেষক ও ঘানার সাবেক কোচ কার্লোস কুইরোজের মতে, ফিফার ২১০টি সদস্য দেশের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি দল যদি মূল পর্বে খেলার টিকিট পায়, তবে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার ঐতিহাসিক মর্যাদা এবং আসরের এক্সক্লুসিভিটি পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।
আগামী দিনগুলোতে ফিফার নির্বাহী কমিটির বিশেষ সভায় এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ ভাগ্য নির্ধারিত হবে। ২০৩০ সালের শতবর্ষী আসরকে রাজকীয় উৎসবে রূপ দেওয়ার রোমাঞ্চ এবং বিশ্ব ফুটবলের গুণগত মান ধরে রাখার দ্বিমুখী লড়াইয়ের ওপরই এখন নির্ভর করছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের ভবিষ্যৎ কাঠামো।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
