স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিং ধসের শিকার হয়ে ১৩ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। এই হারের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি খুইয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ২৪৮ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে ২ উইকেটে ১২২ রান তোলার পরও চরম ভরাডুবির কারণে মাত্র ২৩৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। এর মাধ্যমে টানা চার ওয়ানডে সিরিজ জেতার পর হারের তিক্ত স্বাদ পেল বাংলাদেশ দল।
টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামা জিম্বাবুয়ে শুরুতেই হোঁচট খায়। তবে ওপেনার বেন কারেনের ১৩৫ বলে অপরাজিত ১১১ রানের অনবদ্য সেঞ্চুরি এবং শেষ দিকে ব্রাড ইভান্সের ৩৮ বলে ঝোড়ো ৫৮ রানের ওপর ভর করে ৭ উইকেটে ২৪৭ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে তারা। শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদের ওপর চড়াও হয়ে ৩টি ছক্কাসহ ২২ রান তোলেন ইভান্স।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয় ও তানজিদ হাসানের তৃতীয় উইকেট জুটি ১০৭ বলে ৮৪ রান যোগ করে দলকে জয়ের কক্ষপথে ফিরিয়েছিল। কিন্তু তানজিদ ৭০ বলে ৫৭ রান করে ব্রায়ান বেনেটের বলে বোল্ড হওয়ার পরই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়।
দলকে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করেও ইনিংস দীর্ঘ করতে পারেননি সর্বোচ্চ স্কোরার হৃদয়। ৯০ বলে ৬০ রান করে তাঁর বিদায়ের পর উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার মিছিল শুরু হয়।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, “১২২ রানে ২ উইকেট থাকার পর ম্যাচটি আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু মিডল অর্ডারে দ্রুত উইকেট হারিয়ে আমরা নিজেদের ওপর চাপ ডেকে এনেছি। থিতু হওয়া ব্যাটসম্যানদের কেউ ম্যাচটা শেষ করে আসতে না পারাটাই সবচেয়ে বড় হতাশার।”
শেষ দিকে নুরুল হাসান ৪১ বলে ৩৮ এবং মিরাজ ৩৩ বলে ২৭ রান করে কিছুটা আশা বাঁচিয়ে রাখলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। রিচার্ড এনগারাভার বলে মিরাজ শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ২৩৪ রানে। আগামী পরশু একই মাঠে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি এখন বাংলাদেশের জন্য কেবলই হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর আনুষ্ঠানিকতা।