আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের ডাগআউটে রেফারিংয়ের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ছবি: রয়টার্স
ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হারের পর রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় আফ্রিকান পরাশক্তিরা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মিসরীয় কোচ দাবি করেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে বিপণন ও বাণিজ্যিক স্বার্থে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতেই রেফারি তাঁদের একটি বৈধ গোল বাতিলসহ মিসর জাতীয় দলের প্রতি চরম অবিচার করেছেন।
প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা মিসর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দ্বিতীয় গোল করে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল। কিন্তু ভিএআরের দ্রুত হস্তক্ষেপে ফাউলের অজুহাতে রেফারি ফ্রঁসোয়া ল্যতেক্সিয়ে গোলটি বাতিল করলে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে আফ্রিকান প্রতিনিধিরা।
হোসাম হাসান বলেন, "আমাদের একটি গোল বাতিল করা হয়েছে, আমি জানি না কেন, এবং এটা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। মনে হচ্ছে মেসিকে টুর্নামেন্টে এগিয়ে রাখার একটা প্রচ্ছন্ন ইচ্ছা আছে এবং এর পেছনে নিশ্চিতভাবেই বড় বিপণনের বিষয়ও রয়েছে।"
ম্যাচে আর্জেন্টিনার চেয়ে তাঁর দলই বেশি গোছানো ফুটবল খেলেছে দাবি করে মিসরের এই কোচ মাঠের ভেতরের চেয়ে বাইরের প্রভাবকে হারের বড় কারণ হিসেবে দেখছেন। তিনি আরও বলেন, "আমরাই ভালো খেলেছি, কিন্তু ফুটবল আজ অন্যায় করেছে। হয়তো তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং মেসিকে বিপণনের স্বার্থে বিশ্বকাপে রাখতে চায়। রেফারি মিসর জাতীয় দলের প্রতি অবিচার করেছেন, এখানে কোনো ন্যায়বিচার নেই। ফুটবলের বাইরেও অন্য কিছু বিষয় ছিল, যেগুলো এই হারের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।"
বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে হারলেও নিজের শিষ্যদের মাঠের লড়াকু মানসিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন হোসাম হাসান। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের এমন অন্ধ সমর্থন কেন। তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও আরব বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মিসর কোচ বলেন, "আমি মিসর ও আরব জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমরা আপনাদের আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম এবং বিশ্বকাপে যত দূর সম্ভব যেতে চেয়েছিলাম। খেলোয়াড়রা তাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে। তবে আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখানেই থমকে যাবে না, এর চেয়েও অনেক দূর যাবে। সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ।"
হোসাম হাসানের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ফিফা কিংবা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই রেফারিং বিতর্কের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের যুগেও নকআউট পর্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভিএআর প্রযুক্তির এমন ব্যবহার এবং কোচের এই প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আগামী দিনগুলোতে ফুটবলের নিয়ামক সংস্থাগুলোকে নতুন করে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
