সমানে সমান লড়ছে স্পেন-পর্তুগাল।
ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেন ও পর্তুগাল। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মহাগুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের প্রথমার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচটি সমানে সমান জমজমাট হয়ে উঠেছে। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই দুই দলের ফরোয়ার্ডরা একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করলেও স্পেনের উনাই সিমন ও পর্তুগালের দিয়োগো কস্তার অবিশ্বাস্য সব সেভে এখনো ডেডলক ভাঙা সম্ভব হয়নি। ৪১ বছর বয়সে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ‘লাস্ট ড্যান্স’ নাকি স্প্যানিশ তারুণ্যের জয় হবে—তা নিয়ে মাঠের লড়াই এখন তুঙ্গে।
কস্তার ‘ডাবল সেভ’ ও স্পেনের অবিশ্বাস্য মিস
ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগিজ রক্ষণভাগকে চেপে ধরে স্পেনের আক্রমণভাগ। ম্যাচের ঠিক ৯ মিনিটে স্পেনের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ সুযোগটি আসে। তবে পর্তুগিজ গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালের বাইরে মেরে বসেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল।
এর কিছুক্ষণ পরই, ১৭ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তটি তৈরি করে স্পেন। মাঝমাঠ থেকে রদ্রি বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় সামনে এগিয়ে গিয়ে ডানপ্রান্তে থাকা তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালকে পাস দেন। ইয়ামাল তাঁর ট্রেডমার্ক স্টাইলে বাঁ পায়ে ভেতরে ঢুকে একটি জোরালো শট নেন। যা কর্নারের বিনিময়ে দারুণভাবে প্রতিহত করেন দিয়োগো কস্তা।
ফিরে আসা বল থেকে মুহূর্তের মধ্যে আবার শট নেন স্পেনের আলেক্স বায়েনা। কিন্তু এবারও পরাস্ত করা যায়নি কস্তাকে। অবিশ্বাস্য এক ‘ডাবল সেভে’ পর্তুগালকে নিশ্চিত পতনের হাত থেকে রক্ষা করেন এই গোলরক্ষক।
রোনালদোকে নিরাশ করলেন উনাই সিমন
পাল্টা আক্রমণে পর্তুগালও স্পেনের রক্ষণে কাঁপন ধরায়, যার নেতৃত্ব দেন স্বয়ং অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ম্যাচের ১২ মিনিটে পর্তুগালের একটি চমৎকার আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শট নেন রোনালদো। তবে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন দারুণ দক্ষতায় সেই শটটি রুখে দিয়ে রোনালদোকে গোলবঞ্চিত করেন।
উভয় দলের এমন আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং গোলপোস্টের নিচে দুই গোলরক্ষকের অতিমানবীয় দেয়াল ম্যাচটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
দুই দলের একাদশ ও কোয়ার্টার ফাইনালের সমীকরণ
চলতি বিশ্বকাপে দুই দলের যাত্রাপথ ছিল বেশ নাটকীয়। পর্তুগাল তাদের অভিযান শুরু করেছিল ডিআর কঙ্গোর সাথে ড্র করে। এরপর উজবেকিস্তানকে উড়ালেও কলম্বিয়ার সাথে আবার পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় রোনালদোদের। তবে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে তারা শেষ ষোলো নিশ্চিত করে।
অন্যদিকে, স্পেনও নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেদের চেনা ও ভয়ংকর রূপে ফেরে, যার সর্বশেষ প্রমাণ শেষ ৩২-এ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাদের দুর্দান্ত জয়।
আজকের এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে দুই দলই তাদের সেরা একাদশ মাঠে নামিয়েছে:
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে সম্ভাব্য সব ট্রফি জিতলেও সোনালী বিশ্বকাপটি এখনো তাঁর অধরা রয়ে গেছে। এটিই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হওয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন—রূপকথার মতো এক সমাপ্তি কি অপেক্ষা করছে সিআরসেভেনের জন্য। নাকি আজ রাতেই স্পেনের তরুণদের কাছে থামবে তাঁর মহাকাব্য? ম্যাচের বাকি সময়ের কৌশলী লড়াই এবং ফুটবলারদের স্নায়ুচাপই নির্ধারণ করবে কার ভাগ্যে জুটবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
