অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে ফাঁকি দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন মিসরের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়।
অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ (১২০ মিনিটে ১-১) ব্যবধানে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মিসর। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটে অস্ট্রেলিয়ার দুটি মিস এবং মিসরের শতভাগ সফল স্পট-কিক আফ্রিকার দেশটিকে ঐতিহাসিক এক জয় এনে দেয়।
শনিবার (৪ জুলাই) দোহার আহমেদ বিন আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নকআউট পর্বের এই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৯২ বছরের ইতিহাস ভেঙে শেষ হাসি হাসে ফারাওরা।
১২০ মিনিটের যুদ্ধ শেষে যখন ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। তখন মাঠের কৌশলে বড় চাল চালেন অস্ট্রেলিয়ান কোচ। টাইব্রেকার স্পেশালিস্ট হিসেবে পরিচিত অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাথু রায়ানকে মাঠে নামানো হয় প্যাট্রিক বিচের বদলে। তবে এই জুয়া কাজে আসেনি।
অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি শুটারের নেওয়া প্রথম শটটি বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। অন্যদিকে, মিসরের পক্ষে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নেন মাহমুদ সাবের। এরপর সকারুদের পক্ষে জ্যাকসন আরবিন ও আওয়ার মাবিল এবং মিসরের রামি রাবিয়া ও সুপারস্টার মোহাম্মদ সালাহ প্রত্যেকেই লক্ষ্যভেদ করলে ম্যাচ ৩-২ ব্যবধানে রূপ নেয়। চতুর্থ শটে অস্ট্রেলিয়ার লুকাস হেরিংটনের শটটি বারে লেগে ফিরে আসলে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় মিসর। শেষ শটে আবদেল মাগিদ কোনো ভুল করেননি। নিখুঁত শটে বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে মিসরীয় শিবির। পঞ্চম শটের আর প্রয়োজনই পড়েনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় মিসর। ১৯৩৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নামা দলটি ম্যাচের ১৩ মিনিটেই লিড নেয়। ফ্রি-কিক থেকে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ সরাসরি শট না নিয়ে পাস দেন ইমান আশুরকে। আশুরের প্রথম প্রচেষ্টা রক্ষণভাগে বাধা পেলেও, রিবাউন্ড থেকে আসা ভাসানো বলে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান তিনি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মিসর।
"আমরা জানতাম আজ আমাদের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ। ৯২ বছরের যে আক্ষেপ, তা ঘোচাতে ছেলেরা নিজেদের সবটুকু ঢেলে দিয়েছে। এই জয় পুরো মিসরবাসীর।"
— ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত মিসরীয় কোচ।
বিরতির পরপরই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন মিসরের ওমর মারমুশ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান গোলরক্ষককে একা পেয়েও তিনি লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন। এই ভুলের খেসারত দিতে হয় ম্যাচের ৫৫ মিনিটে। অস্ট্রেলিয়ার একটি ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে গিয়ে মিসরীয় ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন (১-১)।
সমতায় ফেরার পর দুই দলই রক্ষণাত্মক কৌশলে চলে যায়। তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (৯০+৩ মিনিটে) মিসরের একটি নিশ্চিত গোলারুক্ষ প্রচেষ্টা অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে দুই দলই ক্লান্ত পরিশ্রমে আর কোনো গোল করতে না পারলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপের পর (যেখানে প্রথম ম্যাচেই হাঙ্গেরির কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল মিসর) প্রায় এক শতক পর নকআউটের গেরো ছুটাতে পারল তারা। অন্যদিকে, এশিয়ান অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে ২০০২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে নকআউটে জয়ের যে স্বপ্ন অস্ট্রেলিয়া দেখছিল। টাইব্রেকারের ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তা ভেস্তে গেল। প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোর টিকিট কেটে মাঠ ছাড়ল মিসর।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
