× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

প্রযুক্তির সূক্ষ্ম ছোঁয়ায় স্বপ্নভঙ্গ ক্রোয়েশিয়ার, বলের ভেতরের চিপে বাতিল গোল

খেলাধুলা ডেস্ক

০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৪২ পিএম । আপডেটঃ ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫০ পিএম

প্রযুক্তির চুলচেরা বিশ্লেষণে অফসাইডের কারণে গাভার্দিওলের (বাঁ পাশে নীল জার্সি) গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি। ছবি: এএফপি

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শেষ ৩২ দলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে বল জালে জড়ালেও আধুনিক প্রযুক্তির সূক্ষ্মতম চুলচেরা বিশ্লেষণে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। বলের ভেতরে থাকা বিশেষ চিপ ও ‘স্নিকোমিটার’ সদৃশ প্রযুক্তির গ্রাফিক্যাল কম্পনে ক্রোয়েশীয় ফরোয়ার্ড ইগর মাতানোভিচের চুলের আলতো স্পর্শ প্রমাণিত হওয়ায় ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ক্রোয়াটরা।

ম্যাচের যোগ করা সময়ের (৯৩ মিনিট) ১৩তম মিনিটে পর্তুগালের বক্সে তৈরি হওয়া জটলা থেকে বল জালে জড়ান ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার ইয়োস্কা গাভার্দিওল। নাটকীয়ভাবে ২-২ গোলে সমতায় ফেরার আনন্দে যখন ভাসছিল পুরো ক্রোয়েশিয়া দল ও সমর্থকরা, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হয় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। নরওয়ের রেফারি এসপেন এসকাস মাঠের পাশের মনিটরে দীর্ঘ সময় নিয়ে ভিডিও রিপ্লে ও বলের ভেতরের চিপের ডাটা বিশ্লেষণ করে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন।

খালি চোখে অনসাইড মনে হলেও বাঁ প্রান্ত থেকে ক্রসটি আসার পর ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড ইগর মাতানোভিচ বলটি হেড করার জন্য লাফিয়ে উঠেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম 'দ্য অ্যাথলেটিক'-এর সাংবাদিক জ্যাক ল্যাংয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মাতানোভিচ বল স্পর্শ করার মুহূর্তে তাঁর পেছনে থাকা মারিও পাসালিচ অফসাইড পজিশনে ছিলেন। আধুনিক ভিএআর প্রযুক্তিতে ক্রিকেটের ‘স্নিকোমিটার’-এর মতো শব্দ ও কম্পন পরিমাপক গ্রাফ ব্যবহার করা হয়। যা বলের ভেতরে থাকা চিপের সাহায্যে খেলোয়াড়ের শরীরের অতি সামান্যতম স্পর্শও নিখুঁতভাবে ধরে ফেলে। বলটি যখন মাতানোভিচের মাথার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন গ্রাফের কাঁটায় একটি সূক্ষ্ম ‘স্পাইক’ বা কম্পন দেখা যায়, যা প্রমাণ করে বলটি তাঁর মাথা বা চুল স্পর্শ করেছিল।

ব্রাজিলের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম 'গ্লোবো'-র রেফারিং বিশ্লেষক ও সাবেক রেফারি পাওলো সিজার অলিভিয়েরা এই ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সঠিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "ক্রসটি করার মুহূর্তে পাসালিচ সঠিক পজিশনেই ছিলেন। খালি চোখে মাতানোভিচের সেই আলতো ছোঁয়া ধরা পড়া অসম্ভব ছিল। তবে ফুটবলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে ঠিক এ ধরনের সূক্ষ্ম মুহূর্তগুলো ধরার জন্যই। মাতানোভিচের মাথায় লেগে বলটির দিক সামান্য পরিবর্তন হয়েছিল, যা পাসালিচকে অফসাইডের ফাঁদে ফেলেছে।"

খোদ ক্রোয়েশীয় ফরোয়ার্ড ইগর মাতানোভিচও ম্যাচ শেষে বল স্পর্শ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "সত্যি বলতে, আমার মনে হয় চুলে বলের খুব হালকা স্পর্শ লেগেছে। রেফারিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। কারণ, বল স্পর্শ করার ব্যাপারে আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম না। রেফারি আমাকে জানালেন যে বলের ভেতর চিপ বসানো আছে এবং তাতে হালকা স্পর্শ ধরা পড়েছে।"

নাটকীয় ও হৃদয়বিদারক এই বিদায়ের পর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার হেড কোচ জ্লাতকো দালিচ। তিনি বলেন, "বলছি না যে ভিএআর কখনো সাহায্য করে না, কিন্তু এটি ফুটবলের আনন্দ কেড়ে নিচ্ছে এবং আবেগ ধূলিসাৎ করে দেয়। মাঠে সেই মুহূর্তের অনুভূতিগুলোকে শেষ করে দেয় এবং এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া সত্যিই ভীষণ কঠিন।"

বিপরীতে, পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বলেন, "বার্তা একেবারে পরিষ্কার, এখন বলের ভেতরে চিপ বসানো থাকে। বিষয়টি ভীষণ স্পষ্ট এবং সে কারণেই ভিএআর হস্তক্ষেপ করেছে। এখানে ব্যক্তিগত মতামতের কোনো জায়গা নেই।"

চুলের স্পর্শে গোল বাতিলের এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ফুটবল বিশ্বে প্রযুক্তির শাসন ও মানবিক আবেগের দ্বন্দ্বকে নতুন করে উস্কে দিল। বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিয়ে ক্রোয়াটদের এখন মাঠ ছাড়তে হচ্ছে একরাশ হতাশা আর দীর্ঘশ্বাস সঙ্গে নিয়ে।

গোল বাতিলের জেরে মাঠে বোতল ছুঁড়ে ক্ষোভ প্রকাশ ক্রোয়েশিয়া সমর্থকদের। ছবি: এএফপি



National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.