ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জয়সূচক দ্বিতীয় গোলটি করার পর সতীর্থদের সাথে উদযাপনে মেতে উঠেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। রয়টার্স
ঐতিহাসিক ও মনস্তাত্ত্বিক সব বাধা পেরিয়ে নকআউট পর্বের নাটকীয় লড়াইয়ে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে (ডিআর কঙ্গো) ২–১ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের সিংহভাগ সময় পিছিয়ে থেকেও অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ১১ মিনিটের অবিশ্বাস্য ম্যাজিকে জয় ছিনিয়ে নেয় থ্রি-লায়নরা। এই জোড়া গোলের পথে কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে নিজের ত্রয়োদশ (১৩) গোল সম্পন্ন করলেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
বুধবার অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রথমার্ধের শুরুতেই গোল খেয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচের ৭৫ ও ৮৬ মিনিটে হ্যারি কেইনের জোড়া আঘাত কঙ্গোর লড়াকু প্রতিরোধ ভেঙে চুরমার করে দেয়। এই শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের ফলে আগামী ৬ জুলাই টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে গ্যারেথ সাউথগেটের শিষ্যরা।
কঙ্গোর শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো
ম্যাচের শুরুতেই ফেবারিট ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে দেয় ডিআর কঙ্গো। অধিনায়ক শানসেল এমবেম্বার নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে ডি-বক্সের বাঁ দিক দিয়ে ডান পায়ের চমৎকার কোণাকুণি শটে কঙ্গোকে লিড এনে দেন ফরোয়ার্ড ব্রায়ান সিপেঙ্গা।
গোল হজম করার পর ইংলিশ রক্ষণভাগে অস্থিরতা দেখা যায়। সাবেক ইংলিশ গোলরক্ষক জো হার্ট 'বিবিসি স্পোর্টস'-এ মন্তব্য করেন, "কঙ্গো একদমই ভয়ডরহীন ফুটবল উপহার দিচ্ছে এবং গোল খাওয়ার পর ইংলিশদের কিছুটা নড়বড়ে মনে হচ্ছে।"
এক গোলে পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। তবে কঙ্গোর গোলপোস্টের নিচে যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গোলকিপার লিওনেল এমপাসি। ম্যাচের ৩০ মিনিটে জুড বেলিংহামের একটি দুর্দান্ত হেড এবং ৩৫ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের জোরালো শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় নস্যাৎ করেন তিনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+২ মিনিটে) বেলিংহামের আরেকটি নিশ্চিত গোল নিচের বাঁ দিকের কোনা থেকে ঠেলে বের করে দিয়ে অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের জানান দেন এমপাসি। এর আগে ৪২ মিনিটে কঙ্গোর ইওয়ান উইসার শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ব্যবধান দ্বিগুণ হওয়া থেকে বেঁচে যায় ইংল্যান্ড।
৪৪ মিনিটে কঙ্গোর বক্সে গোলকিপার এমপাসির চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যান হ্যারি কেইন। পেনাল্টির জোরালো আবেদন উঠলেও রেফারি কেইনের বিপক্ষেই ফাউলের বাঁশি বাজান।
পরিসংখ্যান বলছিল, ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের পর দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে বিশ্বকাপে প্রথমে গোল হজম করার পর আর কোনো ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়তে পারেনি থ্রি-লায়নরা। আজ কঙ্গোর বিপক্ষেও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির শঙ্কা জাগছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটেও বেলিংহামের দিক পরিবর্তিত শট ঠেকিয়ে দেন এমপাসি। তবে ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে অবশেষে ভাঙে কঙ্গোর প্রতিরোধ। উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান হ্যারি কেইন (১-১)।
সমতায় ফেরার ঠিক ১১ মিনিট পর, অর্থাৎ ৮৬ মিনিটে আবারও ত্রাতা হয়ে আসেন কেইন। বক্সের বাইরে গর্ডনের কাছ থেকে বল পেয়ে ক্ষিপ্র গতিতে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের জোরালো শটে কঙ্গোর জাল কাঁপান ইংলিশ অধিনায়ক। ১১ মিনিটের এই টর্নেডোতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরে নেয় ইংল্যান্ড।
আজকের জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে পেলের ১২ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন হ্যারি কেইন। বিশ্বমঞ্চে এখন তাঁর মোট গোলসংখ্যা ১৩টি।
একই সাথে চলতি আসরে ৫ গোল নিয়ে আর্লিং হলান্ডের সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন কেইন। তাঁর ওপরে আছেন কেবল ৬টি করে গোল করা লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
