ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে মরক্কোর বিরুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় এড়িয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ে বিপর্যয়ের মুখে থাকা সেলেসাওদের সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। অন্যদিকে, গতিময় ও নান্দনিক ফুটবল খেলে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্তিমত্তার আরও একবার জানান দিল 'আটলাসের সিংহ' খ্যাত মরক্কো।
ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি ১–১ গোলে ড্র হয়েছে।
২০ মিনিটে মরক্কোর তারকা মিডফিল্ডার ইসমায়েল সাইবারির একক প্রচেষ্টার এক দারুণ গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় মেটলাইফ স্টেডিয়াম। প্রথমার্ধের বাকিটা সময় ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে রীতিমতো কোণঠাসা করে রাখে মরক্কোর আক্রমণভাগ।
মাঝমাঠে মরক্কোর গতিময় ও নিখুঁত পাসের বিপরীতে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিলেন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। একই সাথে রক্ষণভাগে রজার ইবানিয়েজের মারাত্মক পজিশনাল ভুলের কারণে প্রথমার্ধটি ব্রাজিলের জন্য ছিল একটি ‘হরর শো’।
বিপর্যয় এড়াতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কৌশলগত পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কাসেমিরো ও ইবানিয়েজকে মাঠ থেকে তুলে তিনি নামান ফাবিনিও ও দানিলোকে। এই পরিবর্তনের পর ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পায় লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কোর রক্ষণব্যুহ ভেদ করে একক দক্ষতায় বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান তিনি। যা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো সমর্থককে উল্লাসে ভাসায়।
মরক্কোর কোচ বলেন, "আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছি এবং বিশ্বসেরা দলের বিরুদ্ধে লিড নিতে পেরেছি। জয় না পেলেও ছেলেদের পারফরম্যান্সে আমি গর্বিত।"
ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, "প্রথমার্ধে আমাদের মাঝমাঠ ও রক্ষণের সমন্বয়হীনতা ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ছেলেরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং ভিনিসিয়ুস যেভাবে নিজের জাত চিনিয়েছে। তা প্রশংসনীয়।"
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ পর্বের সমীকরণ আরও জমে উঠল। ব্রাজিলকে যদি নকআউট পর্বে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে হয়। তবে রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে দ্রুত ছন্দে ফিরতে হবে। অন্যদিকে, মরক্কো প্রমাণ করল যে কোনো পরাশক্তিকে রুখে দেওয়ার সামর্থ্য তাদের রয়েছে।