ফিফা বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের রক্ষণভাগ চূর্ণ করে প্রথমার্ধেই লিড নিয়েছে মরক্কো। ম্যাচের শুরু থেকেই হাই-প্রেসিং ফুটবলে সেলেসাওদের চেপে ধরা মরক্কোর আক্রমণাত্মক কৌশলেরই সফল রূপান্তর ঘটে এই নান্দনিক গোলে।
ক্যালিফোর্নিয়ার মাঠে ম্যাচের ২০ মিনিটে মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসন বেকারের মাথার ওপর দিয়ে চমৎকার চিপ শটে বল জালে জড়ান।
ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয় মরক্কো। গতি ও নিখুঁত ট্যাকটিকসের সমন্বয়ে ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটেই ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে কড়া পরীক্ষার মুখে ফেলে অ্যাটলাস লায়ন্সরা। একের পর এক হাই-প্রেসিং ফুটবলের মাধ্যমে তারা ব্রাজিলের মাঝমাঠ ও রক্ষণের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ সময় মরক্কো ব্রাজিলের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে দুটি বিপজ্জনক শট নিলেও, ব্রাজিল প্রথম ১০ মিনিটে প্রতিপক্ষের পোস্টে কোনো শটই রাখতে পারেনি।
প্রাথমিক চাপ সামলে ব্রাজিল যখনই নিজেদের চিরচেনা ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছিল। ঠিক তখনই ঘটে ছন্দপতন। ম্যাচের ২১ মিনিটে মরক্কোর মাঝমাঠ থেকে রক্ষণচেরা একটি নিখুঁত থ্রু পাস খুঁজে নেয় ইসমায়েল সাইবারিকে। ব্রাজিলের রক্ষণভাগের অফসাইড ট্র্যাপ ভেঙে বল নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। গোললাইন ছেড়ে ব্রাজিলের বিশ্বসেরা গোলরক্ষক আলিসন কিছুটা সামনে এগিয়ে এলে ঠান্ডা মাথায় তার মাথার ওপর দিয়ে চিপ করেন সাইবারি, যা সরাসরি ব্রাজিলের জালে আশ্রয় নেয়।
গ্যালারিতে উপস্থিত মরক্কোর এক সমর্থক বলেন, "ব্রাজিল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হতে পারে, তবে আজ আমাদের ফুটবলাররা দেখিয়ে দিয়েছে যে মরক্কো কাউকেই ভয় পায় না। সাইবারির গোলটি ছিল একদম বিশ্বমানের।"
বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের মতো ফেবারিট দলের বিপক্ষে এই গোল মরক্কোকে মানসিকভাবে বিশাল আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে। অন্যদিকে, নক-আউট পর্বের দৌড়ে টিকে থাকতে বা নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে ব্রাজিলকে এখন তাদের আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে হবে। খেলার এই ধারা বজায় থাকলে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল কৌশল পরিবর্তন করে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে, যা ম্যাচটিকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।