কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্বাগতিক কাতারকে স্তব্ধ করে পেনাল্টি থেকে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে নিয়েছেন স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলো। ম্যাচের ১৩ মিনিটে কাতারের আহমেদ বিন আলী স্টেডিয়ামে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি তৈরি হয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে এটিই সুইজারল্যান্ডের প্রথম গোল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা সুইজারল্যান্ডকে প্রথম সাফল্য এনে দেন ব্রিল এমবোলো ও রেমো ফ্রয়েলারের চমৎকার বোঝাপড়া। ১৩ মিনিটে এমবোলোর একটি নিখুঁত হেড থেকে বল ডি-বক্সের ভেতরে নিচে নামলে তা নিয়ন্ত্রণে নিতে বিদ্যুৎগতিতে ছুটে যান মিডফিল্ডার রেমো ফ্রয়েলার।
বল ক্লিয়ার করার উদ্দেশ্যে কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা ছুটে এলেও ফ্রয়েলারই সবার আগে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন। সে সময় ফ্রয়েলারকে থামাতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ফাউল করে বসেন কাতার গোলরক্ষক। রেফারি কোনো দ্বিধা ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে সুইজারল্যান্ডকে উল্লাসে ভাসান ব্রিল এমবোলো।
সুইজারল্যান্ডের কোচ বলেন, "বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিটি গোলই স্পেশাল, তবে এটি আমাদের ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি একদম সঠিক ছিল এবং এমবোলো অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে।"
অন্যদিকে, পেনাল্টির ধাক্কা সামলে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া কাতার শিবিরের এক কর্মকর্তা জানান, "শুরুতেই এমন ভুল আমাদের পরিকল্পনা কিছুটা এলোমেলো করে দিয়েছে। তবে দলের ছেলেরা ঘুরে দাঁড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।"
এই গোলের মাধ্যমে প্রথমার্ধেই ম্যাচে মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা পেয়ে গেছে সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে, হোম গ্রাউন্ডের চেনা দর্শক ও চেনা কন্ডিশনে খেলেও রক্ষণভাগের এই ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে কাতারকে। ম্যাচের বাকি সময়ে সুইজারল্যান্ড এই লিড ধরে রেখে নকআউট পর্বের রাস্তা সুগম করতে পারে কি না। নাকি কাতার কামব্যাক করে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।