অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের। ছবি: সংগৃহীত
২১ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঘরের মাঠে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ। টস হেরে প্রথমে বোলিং করতে নেমে তাসকিন-মোস্তাফিজের আগুনে বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে স্তব্ধ করার পর, বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রায় ৩৫ ওভারেই পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
আজ বৃহস্পতিবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সফরকারীদের বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
২০০৫ সালে কার্ডিফের ঐতিহাসিক জয়ের পর ওয়ানডে সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়। একই সাথে ঘরের মাঠে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিজেদের করে নিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রথম ম্যাচে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বড় জয়ের পর এই জয়ে টানা চতুর্থ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের নতুন রেকর্ড গড়ল স্বাগতিক বাংলাদেশ।
এর আগে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে ম্যাচের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে খাদের কিনারে ঠেলে দেয় বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। ওয়ানডে ইতিহাসের এক চরম লজ্জার রেকর্ড সঙ্গী করে কোনো রান না তুলেই (০ রানে ৩ উইকেট) সাজঘরে ফেরেন অজিদের শীর্ষ তিন ব্যাটার। প্রথম ওভারে ম্যাট শর্টকে তাসকিন আহমেদ এবং পরের ওভারে কুপার কনোলি ও ম্যাট রেনশকে শূন্য রানে ফিরিয়ে মিরপুর মাতান মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর ২৫ রানে চতুর্থ ও ৮১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে তীব্র ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা।
চরম বিপর্যয় থেকে অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তোলার লড়াই করেন মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট। সপ্তম উইকেটে এই দুজনের ১০৩ রানের লড়াকু জুটিতে ভর করে বিপর্যয় সামাল দেয় তারা। তবে ফিফটি করা বার্টলেটকে (৫৫) বোল্ড করে এই প্রতিরোধ ভাঙেন তাসকিন, যার পরের বলেই তিনি লর্ডস ট্রফির চেনা প্রতিপক্ষ অ্যাডাম জাম্পাকেও বোল্ড করেন। ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৪ রান তোলার পর মিরপুরে মুষলধারে বৃষ্টি নামলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।
বৃষ্টি থামার পর ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) আইনে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান। রান তাড়ায় নেমে প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসানকে শূন্য রানে হারিয়ে ধাক্কা খায় দল। তবে দ্বিতীয় উইকেটে সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৬ রানের আক্রমণাত্মক জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে এনে দেয়। দুজনেই সমান ৪২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরলে এবং পরবর্তীতে লিটন (২১) ও মোসাদ্দেক (১৫) দ্রুত বিদায় নিলে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল।
১৪৪ রানে ৫ উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরেন সহ-অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। অজি স্পিনারদের ওপর চড়াও হয়ে এই দুই ব্যাটার ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন ম্যাচজয়ী জুটি গড়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। ৫৫ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তাওহীদ হৃদয় এবং অন্যপ্রান্তে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন মিরাজ।
"ছেলেরা আজ মাঠে যে চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। তাসকিন-মোস্তাফিজের শুরুটা আমাদের চালকের আসনে বসিয়ে দিয়েছিল। এরপর শান্ত-সৌম্যর ভিত এবং হৃদয়-মিরাজের পরিপক্ব ব্যাটিং এই ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছে।"— বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
