মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দীর্ঘ ২১ বছর পর ঐতিহাসিক জয়ের পর মাঠেই উল্লাসে ফেটে পড়েন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। ছবি: সংগৃহীত
কার্ডিফের সেই ঐতিহাসিক রূপকথার দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারিয়ে অনন্য এক জয়োৎসব উদ্যাপন করল বাংলাদেশ। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মোসাদ্দেক হোসেনের অপরাজিত ৮৩ ও নাজমুল হোসেনের ৬৭ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে নাহিদ রানার গতিঝড় ও তাসকিনের তোপে পড়ে ১৯৮ রানেই থমকে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টির বাধায় ডকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ বা বড় ব্যবধানে হারিয়ে এই গৌরবময় রেকর্ড গড়ে স্বাগতিকেরা।
মিরপুরে ২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংসের প্রথম বলেই স্তব্ধ করে দেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তাঁর ভেতরে ঢোকা এক দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন অজি ওপেনার ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারেই মোস্তাফিজুর রহমানের বলে মার্নাস লাবুশেন এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়লে মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে কুপার কনোলি ও জশ ইংলিস যখনই প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিলেন, তখনই দৃশ্যপটে আসেন তরুণ গতি তারকা নাহিদ রানা। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতি আর বিষাক্ত বাউন্সারে অজি ব্যাটারদের বোকা বানিয়ে ৪১ রানে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন তিনি। জশ ইংলিসকে (১৯) আউট করার পর নাহিদের আগ্রাসী উদযাপন ও স্লেজিং ম্যাচের উত্তেজনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
পেসার নাহিদ রানা সরাসরি বলেন, "অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে লাইন-লেন্থ বজায় রেখে কেবল গতি দিয়ে পরাস্ত করাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। এই জয়টি আমাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার ফল এবং পুরো দলের আত্মবিশ্বাসকে এটি এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।"
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শুরুতে সাইফ হাসান দ্রুত বিদায় নিলেও, তানজিদ হাসান (৫৪) ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের (৬৭) ৯১ বলে ৯৬ রানের জুটি বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। তবে মাঝে ৩৪ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে দল যখন কিছুটা চাপে পড়ে, তখন হাল ধরেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরে মোসাদ্দেক উপহার দেন ৭০ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো ৮৩ রানের এক চোখধাঁধানো অপরাজিত ইনিংস। তাওহিদ হৃদয়ের (২৯) সঙ্গে কার্যকরী জুটি গড়ার পাশাপাশি শেষ দিকে অ্যাডাম জাম্পাকে টানা তিন বলে বাউন্ডারি মেরে দলের রানকে ২৮৪ পর্যন্ত নিয়ে যান তিনি। যদিও অজি ফিল্ডাররা মোসাদ্দেকের চারটি ক্যাচ মিস করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ক্যামেরন গ্রিনের ৬৬ বলে ৫২ রান এবং কনোলির লড়াই কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। সফরকারী দলটির দ্বিতীয় সারি হলেও, এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ২১ বছরের এক দীর্ঘ আক্ষেপের অবসান ঘটাল। এই জয়ের ফলে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বাংলাদেশের শক্তিমত্তা প্রমাণসহ আগামী ওয়ানডে সুপার লিগের টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল টাইগাররা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
