ফুটবলের নিয়মকানুনে বড় ধরনের সংস্কার এনে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা)। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর-এর পরিধি বৃদ্ধি, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পর্যালোচনা এবং মাঠে মুখ ঢেকে কথা বলার অপরাধে সরাসরি লাল কার্ডের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই তালিকায়। ফুটবলের আইন-প্রণেতা সংস্থা ‘আইএফএবি’-এর বার্ষিক সভায় এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কর্নার বা ফ্রি-কিকের ঠিক আগে ডি-বক্সে কোনো ফাউল হলে এবং তার প্রভাবে গোল বা পেনাল্টি পাওয়া গেলে তা বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে ভিএআরের। ভিডিও রেফারি প্রধান রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউর অনুরোধ জানাবেন এবং বল সচল হওয়ার আগে ফাউল প্রমাণিত হলে গোল বাতিল করে পুনরায় কিক নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
ফিফা রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কলিনা বলেন, ‘‘সেদিন ইংল্যান্ডের বেন হোয়াইটের গোলটি বৈধ হওয়া উচিত ছিল না। কারণ কর্নার কিক নেওয়ার ঠিক আগে উরুগুয়ের ডিফেন্ডারকে অনৈতিকভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল, যা নতুন নিয়মে বাতিল বলে গণ্য হবে।’’
খেলোয়াড়দের অসদাচরণ ও মাঠের শৃঙ্খলা রক্ষায় এবার আরও কঠোর হচ্ছে ফিফা। ম্যাচ চলাকালীন হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রেফারি বা প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর, উত্তেজনাপূর্ণ কিংবা কোনো গোপন যোগাযোগ করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন রেফারি।
একই সাথে কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার জন্য চোট বা চিকিৎসার অজুহাতে মাঠের বাইরে গিয়ে কোচের সাথে দলীয় আলোচনা বা ‘ট্যাকটিক্যাল টাইমআউট’ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কলিনা বলেন, ‘‘গোলকিপার বা কোনো খেলোয়াড় আহত হতেই পারেন, কিন্তু সেই সুযোগে অন্য খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে কোচের সঙ্গে কৌশলগত বৈঠক করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না।’’
তা ছাড়া, ভুল খেলোয়াড়কে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেওয়ার মতো ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধন এবং ভুলবশত কর্নার বা গোল কিক দেওয়ার মতো জটিলতা এড়াতেও সীমিত পরিসরে হস্তক্ষেপ করতে পারবে ভিএআর। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া ৪৮টি দলের প্রধান কোচদের কর্মশালায় ইতিমধ্যে এই নিয়মগুলো সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে, যা আগামী বিশ্বকাপেরই ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।