টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০০ রানের পুঁজি নিয়ে লড়াই করা যে কোনো বোলিং ইউনিটের জন্যই এক দুঃসাধ্য চ্যালেঞ্জ। করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ সেই কঠিন বাস্তবতারই মুখোমুখি হলো লাহোর কালান্দার্স। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের দাপুটে বোলিং ও ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সামনে কার্যত পাত্তাই পেল না শাহিন শাহ আফ্রিদির দল। ৫৮ বল এবং ৯ উইকেট হাতে রেখে ইসলামাবাদের এই বিশাল জয় লাহোরকে কেবল ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেয়নি, বরং তাদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের কঙ্কালটিও উন্মোচিত করে দিয়েছে।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই দিকভ্রান্ত ছিল লাহোর কালান্দার্স। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের মিছিলে বড় কোনো জুটি গড়া সম্ভব হয়নি। দলের পক্ষে সিকান্দার রাজা সর্বোচ্চ ২৫ এবং হাসিবউল্লাহ খান ১৯ রান করেন, যা একটি আধুনিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের প্রেক্ষাপটে ছিল নিতান্তই নগণ্য। ইসলামাবাদের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নির্ধারিত ২০ ওভারও খেলতে পারেনি লাহোর। ক্রিস গ্রিন একাই শিকার করেন ৩টি উইকেট। তাকে যোগ্য সংগত দিয়ে ইমাদ ওয়াসিম, শাদাব খান ও ক্রিস গ্লিসনরা ২টি করে উইকেট নিয়ে লাহোরের ইনিংসকে মাত্র ১০০ রানেই থামিয়ে দেন।
সামান্য এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড কোনো সুযোগই হাতছাড়া করেনি। ওপেনার সামির মিনহাজ দ্রুত বিদায় নিলেও ডেভন কনওয়ে ও মোহাম্মদ ফাইকের অবিচ্ছিন্ন ও আক্রমণাত্মক জুটি জয়কে কেবল সময়ের ব্যাপার করে তোলে। লাহোরের চতুর্থ বোলার হিসেবে আক্রমণে আসা বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান আজ নিজের চেনা ছন্দে ছিলেন না। ২ ওভার বল করে ১৬ রান খরচ করলেও কোনো সাফল্য পাননি তিনি। চলতি আসরে আগের তিন ম্যাচে ৪ উইকেট নিলেও আজই প্রথম উইকেটশূন্য মাঠ ছাড়তে হলো তাকে।
এবারের আসরে এটি ছিল লাহোর কালান্দার্সের চতুর্থ ম্যাচ। আগের তিন ম্যাচের দুটিতে জয় পেলেও আজকের এই বড় ব্যবধানের হার তাদের নেট রান-রেটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, বড় জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড আসরে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল।
দিনশেষে স্কোরবোর্ডের সামান্য পুঁজি বোলারদের জন্য কোনো সুরক্ষাকবচ তৈরি করতে পারেনি। শাহিন আফ্রিদি ও মোস্তাফিজদের মতো বিশ্বমানের বোলার থাকা সত্ত্বেও ব্যাটিং ইউনিটের চরম ব্যর্থতাই লাহোরের পরাজয়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে ঘুরে দাঁড়াতে হলে লাহোরকে তাদের ব্যাটিং লাইন-আপ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।