মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ অলিখিত এক ‘ফাইনাল’। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণী এই লড়াইয়ে বাংলাদেশের দেওয়া ২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই বিপাকে পড়েছে পাকিস্তান। গতি আর সুইংয়ের পসরা সাজিয়ে প্রথম ওভারেই ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছেন দেশের পেস ইউনিটের কাণ্ডারি তাসকিন আহমেদ।
জয়ের জন্য ২৯১ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য। জবাব দিতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল বিভীষিকাময়। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদের বলে কুপোকাত হন পাকিস্তানের তারকা ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান। তাসকিনের দুর্দান্ত গতির কাছে পরাস্ত হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে যখন ফারহান সাজঘরে ফেরেন, সফরকারীদের স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ৬ রান। তাসকিনের এই আগুনে শুরু গ্যালারিতে থাকা হাজারো দর্শককে জয়ের স্বপ্নে উদ্বেলিত করে তুলেছে।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। উদ্বোধনী জুটিতেই স্কোরবোর্ডে জমা হয় ১০৫ রান। ব্যক্তিগত ৩৬ রানে সাইফ হাসান শাহিন আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে ফিরলে ভাঙে এই শক্ত জুটি। তবে উইকেটের অন্যপ্রান্তে অবিচল ছিলেন তানজিদ তামিম।
নাজমুল হোসেন শান্তর (২৭) দ্রুত বিদায়ে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হলেও তানজিদ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ইনিংসের ৩৩তম ওভারে হারিস রউফকে দৃষ্টিনন্দন এক ছক্কায় ওড়ানোর মধ্য দিয়ে পূরণ করেন ক্যারিয়ারের লড়াকু এক শতক। ৯৮ বলে সাজানো তার ১০৭ রানের ইনিংসে ছিল ৭টি ছক্কা ও ৬টি চারের মার।
তানজিদ ও লিটন দাসের ৪১ রানের লড়াকু ইনিংসের ওপর ভর করে বড় সংগ্রহের দিকে এগোতে থাকে বাংলাদেশ। শেষদিকে তাওহীদ হৃদয়ের ৪৪ বলে অপরাজিত ৪৮ রানের ক্যামিও ইনিংসটি দলের সংগ্রহকে ৫ উইকেটে ২৯০ রানে পৌঁছে দেয়। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে শাহিন আফ্রিদি ও হারিস রউফ কিছুটা সফল হলেও বাংলাদেশের ব্যাটারদের দাপট ছিল স্পষ্ট।
সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে এখন কেবল প্রয়োজন তাসকিন-মোস্তাফিজদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং। মিরপুরের মন্থর উইকেটে ২৯১ রান টপকানো পাকিস্তানের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা দিচ্ছে।