অনিশ্চয়তা আর উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অস্ট্রেলিয়া থেকে স্বদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইরানের নারী জাতীয় ফুটবল দলের তিন সদস্য। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় গত মাসে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন তাঁরা। তবে সিডনি ত্যাগের অন্তিম মুহূর্তে নিজেদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তাঁরা এখন তেহরানে ফিরে যাচ্ছেন।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত নারী এশিয়া কাপ চলাকালীন ইরানের জাতীয় দলের মোট সাতজন সদস্য আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন খেলোয়াড় এবং দলের লজিস্টিক বিভাগের একজন কর্মী এখন দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচে ইরানের জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় নীরব থেকে এক অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন দলের বেশ কয়েকজন সদস্য। সেই ঘটনার পর ইরানে ফিরে গেলে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হতে পারেন—এমন প্রবল আশঙ্কা থেকে কয়েকজন খেলোয়াড়কে মানবিক ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া সরকার।
আশ্রয়ের আবেদন থেকে সরে আসার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও রহস্যাবৃত থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক চাপ ও স্বদেশের প্রতি টান এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। তবে বাকি চার সদস্য এখনও অস্ট্রেলিয়াতেই অবস্থান করছেন এবং তাঁদের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ইরানি প্রমীলা ফুটবলারদের এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। একদিকে যেমন স্বদেশের জাতীয় সংগীত বয়কট করে তাঁরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তেমনি বিদেশের মাটিতে আশ্রয়ের লড়াইয়ে নেমে তাঁরা হয়ে উঠেছিলেন বর্তমান ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রতিচ্ছবি।
ক্রীড়াঙ্গনের এই ব্যক্তিগত লড়াই এখন কেবল একটি ফুটবল দলের গল্প নয়, বরং এটি স্বৈরতন্ত্রের ভীতি ও দেশপ্রেমের মধ্যকার এক মনস্তাত্ত্বিক সংগ্রামের দলিলে পরিণত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা