ইনিংসের শুরুতেই শাহীন আফ্রিদির ইনসুইঙ্গারে পরাস্ত হয়ে সাজঘরে ফিরছেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ছবি: সংগৃহীত
প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই সিরিজ নিশ্চিত করার হাতছানি ছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে প্রকৃতি আর প্রতিপক্ষের বোলিং তোপে সে স্বপ্ন আপাতত অপূর্ণই রয়ে গেল। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বৃষ্টি আইনে (ডিএলএস মেথড) ১২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরল সফরকারীরা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল রাজকীয়। উদ্বোধনী জুটিতে মাজ সাদাকাত ও সাহেবজাদা ফারহান ১০৩ রান যোগ করে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। বিশেষ করে তরুণ তুর্কি মাজ সাদাকাত ছিলেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করে, মাত্র ৩১ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পূর্ণ করা এই ব্যাটার ৪৬ বলে ৭৫ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। মাঝে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তান কিছুটা চাপে পড়লেও চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ রিজওয়ান (৪৪) ও আগা সালমানের (৬৪) ১০৯ রানের জুটি তাদের লড়াকু পুঁজি এনে দেয়। শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। রিশাদ হোসেন ৫৬ রানে ৩টি এবং মিরাজ ৩৪ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।
২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই শাহীন শাহ আফ্রিদির আগুনে বোলিংয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১৫ রানেই তানজিদ তামিম, সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট হারিয়ে যখন স্বাগতিকরা ধুঁকছে, তখনই নামে ঝুম বৃষ্টি। দীর্ঘ বিরতির পর রাত সাড়ে ৯টায় যখন পুনরায় খেলা শুরু হয়, তখন ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। অর্থাৎ বাকি ২৫.৩ ওভারে তুলতে হতো ২১৬ রান।
কঠিন এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লিটন দাস একাই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলে ৩৩ বলে ৪১ রান করে আশার আলো দেখাচ্ছিলেন তিনি। চতুর্থ উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের (২৮) সঙ্গে ৫৮ রানের জুটিও গড়েছিলেন। কিন্তু অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখানো মাজ সাদাকাতের ঘূর্ণিতে লিটন এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়তেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। আফিফ (১৪), মিরাজ (১) ও রিশাদরা (২) দ্রুত বিদায় নিলে জয়ের আশা বিলীন হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২৩.৩ ওভারে মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
পাকিস্তানের জয়ের নায়ক নিঃসন্দেহে মাজ সাদাকাত। ব্যাট হাতে ৭৫ রানের পর বল হাতেও ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ ২৬ রানে ৩টি এবং শাহীন আফ্রিদি ২২ রানে ২ উইকেট নিয়ে টাইগারদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।
আগামী ১৫ মার্চ সিরিজের অঘোষিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। মিরপুরেই নির্ধারিত হবে কার হাতে উঠছে ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
বিষয় : বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ ক্রিকেট
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
