আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ চারদিকে কেবলই নীল সমুদ্রের গর্জন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে শিরোপা জিততে হলে টপকাতে হবে ২৫৬ রানের এক বিশাল হিমালয়। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতীয় ব্যাটারদের রুদ্রমূর্তিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রান সংগ্রহ করেছে টিম ইন্ডিয়া।
২০২১ সালের ফাইনালে হারের সেই দগদগে ক্ষত আর ব্লাক ক্যাপসদের দীর্ঘদিনের শিরোপা আক্ষেপ ঘুচানোর সুযোগ আজ। তবে ভারতের দেওয়া এই লক্ষ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসের যেকোনো ফাইনালের হিসেবে রীতিমতো অবিশ্বাস্য।
স্যামসন-অভিষেক-ইশানের ত্রিমুখী তাণ্ডব
ইনিংসের শুরু থেকেই কিউই বোলারদের ওপর স্টিম রোলার চালিয়েছেন ভারতীয় ওপেনাররা। অভিষেক শর্মা মাত্র ২১ বলে ৫২ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৩টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা। এরপর তিনে নামা ইশান কিশানও সেই ধারা বজায় রাখেন, ২৫ বলে ৫৪ রান করে দলের রানের গতিকে সচল রাখেন তিনি।
তবে ভারতীয় ইনিংসের আসল কারিগর ছিলেন সাঞ্জু স্যামসন। সেমিফাইনালের সেই মহাকাব্যিক ইনিংসের পুনরাবৃত্তি যেন আজ ফাইনালেও দেখা গেল। মাত্র ৪৬ বলে ৮টি ছক্কা আর ৫টি চারের সাহায্যে তিনি করেন সর্বোচ্চ ৮৯ রান। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ৯৭* রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে দলকে খাদের কিনারা থেকে তুলে এনেছিলেন স্যামসন। আজ আবারও বড় মঞ্চে তাঁর চওড়া ব্যাট ভারতকে কক্ষপথে রাখে।
শেষ মুহূর্তের ক্যামিওতে রান পাহাড়
ইনিংসের শেষ ওভারে গ্যালারিকে উৎসবে ভাসান শিবম দুবে। মাত্র ৮ বলে ২৬ রানের এক খুনে ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে শেষ ওভার থেকেই আদায় করে নেন মূল্যবান ২৪ রান। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ব্যাটারদের আগ্রাসনের সামনে কোনো কার্যকরী প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি।
প্রথম শিরোপা জয়ের হাতছানি কিউইদের সামনে থাকলেও, আহমেদাবাদের ব্যাটিং স্বর্গে ভারতের এই ‘পাহাড়’ জয় করাটা উইলিয়ামসনদের জন্য এখন অগ্নিপরীক্ষার শামিল।