০৭ মার্চ ২০২৬, ২২:১৯ পিএম । আপডেটঃ ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২:৪৯ পিএম
জাপানি স্ট্রাইকারদের একের পর এক গোলমুখী আক্রমণের মুখে দিশেহারা ভারতীয় গোলরক্ষক। ছবি: এএফপি
মাঠের সবুজ গালিচায় যেন এক পশলা নীল ঝড় বয়ে গেল। এএফসি নারী এশিয়ান কাপে ফুটবলের নান্দনিকতা আর নির্মমতার এক অদ্ভুত মিশেল দেখাল জাপান। পার্থের রেক্টেঙ্গুলার স্টেডিয়ামে আজ ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ভারতকে স্রেফ গোলবন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে সূর্যোদয়ের দেশটির কন্যারা। জাপানের মুহুর্মুহু আক্রমণে দিশেহারা ভারতের জালে বল জড়িয়েছে ১১ বার। এই পাহাড়সম জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের শক্তির জানান দিল গতবারের রানার্সআপরা।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ—পুরো নব্বই মিনিটজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল জাপানিদের পায়ে। মজার ব্যাপার হলো, ম্যাচের ২১ থেকে ৩৪ এবং ৬৬ থেকে ৮০ মিনিট—এই দুই সংক্ষিপ্ত বিরতি ছাড়া জাপানি স্ট্রাইকাররা ভারতকে এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তিতে নিশ্বাস নিতে দেয়নি। প্রতি ৫ থেকে ১০ মিনিট অন্তর অন্তর ভারতীয় রক্ষণভাগ চিরে বল পৌঁছে গেছে জালের ঠিকানায়। প্রথমার্ধে ৫ গোলের পর বিরতির পরবর্তী অর্ধে আরও ৬ গোল করে ১১-০ ব্যবধানের এক বিশাল জয় তুলে নেয় জাপান।
১১ গোল ব্যবধানের এই জয় বড় মনে হলেও জাপানের ফুটবলে এটিই সেরা নয়। ২০০১ সালের আসরে সিঙ্গাপুরকে ১৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করার এক অনন্য নজির আছে তাদের। তবে আজকের ম্যাচে চীনের তাইপের বিপক্ষে আগের ম্যাচের ম্লান পারফরম্যান্স (২-০ জয়) পুষিয়ে দিল দলটি। ম্যাচের ৪ মিনিটেই গোলের খাতা খোলেন তারা। এরপর ১৩, ২০, ৩৫ থেকে শুরু করে ৮১ মিনিট পর্যন্ত গোলউৎসব চলেছে সমানতালে। জাপানের পক্ষে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন হিনাতা মিয়াজাওয়া ও রিকো উয়েকি। এছাড়া কিকো সেইকি দুটি এবং ইয়ামামোতো, হাসেগাওয়া ও হিজিকাতা একটি করে গোল করে এই বিশাল জয়ে অবদান রাখেন।
টানা দুই হারে ভারতের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন এখন খাদের কিনারায়। ২ ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না পাওয়া ভারত গোল ব্যবধানেও অনেক পিছিয়ে পড়ল। অন্যদিকে, ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার আগে শেষ আট নিশ্চিত করেছে জাপান। গ্রুপের রানার্সআপ হওয়ার লড়াইয়ে এখন টিকে আছে ৩ পয়েন্ট করে পাওয়া চাইনিজ তাইপে ও ভিয়েতনাম। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী তিন গ্রুপের সেরা দুই দলের সঙ্গে তৃতীয় হওয়া সেরা দুটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে, যেখানে বর্তমানে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।