× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ভারতীয় বিনিয়োগের ভিড়ে কি ব্রাত্য হচ্ছেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা?

স্পোর্টস ডেস্ক

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১১ এএম । আপডেটঃ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১১ এএম

মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ক্রিকেট কূটনীতি: দ্য হান্ড্রেডের নিলামে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। ছবি: গেটি ইমেজ

ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আসর ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর আসন্ন নিলামকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, টুর্নামেন্টটির আটটি দলের মধ্যে যেসব ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় ভারতীয় বিনিয়োগ রয়েছে, তারা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দলে নিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। ক্রিকেট আর কূটনীতির এই অদৃশ্য দেওয়াল এবার লন্ডনের লর্ডস থেকে ওভাল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৈষম্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই প্রভাব নিয়ে এখন উত্তাল বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গন।

বিবিসি স্পোর্ট-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী ১১ ও ১২ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য নিলামে পাকিস্তানের ৬৭ জন ক্রিকেটার নাম নিবন্ধন করলেও ভারতীয় মালিকানাধীন দলগুলোর অনাগ্রহের কারণে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। বর্তমানে ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর আটটি দলের মধ্যে চারটি— ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস, এমআই লন্ডন, সাউদার্ন ব্রেভ এবং সানরাইজার্স লিডস— সরাসরি বা আংশিকভাবে আইপিএল সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর মালিকানাধীন। ২০০৯ সাল থেকে রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের প্রবেশাধিকার নেই। বিশ্লেষকদের মতে, সেই একই ছায়া এখন ইংল্যান্ডের মাটিতেও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। একজন প্রভাবশালী এজেন্টের মতে, বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে ভারতীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এটি যেন এক ‘অলিখিত নিয়ম’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) বরাবরই দাবি করে আসছে যে, দ্য হান্ড্রেড-এ কোনো ধরনের বৈষম্যের স্থান নেই। ইসিবির মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, “আমরা বিশ্বের সকল দেশের ক্রিকেটারদের স্বাগত জানাই এবং প্রতিটি দলের মধ্যে সেই বৈচিত্র্য প্রতিফলিত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।” তবে পর্দার পেছনের চিত্র ভিন্ন। ইসিবির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পাঠানো বার্তায় আভাস মিলেছে যে, কেবল আইপিএল-সংশ্লিষ্ট নয় এমন দলগুলোই পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের প্রতি কিছুটা আগ্রহ দেখাতে পারে। উল্লেখ্য, গত মৌসুমে মোহাম্মদ আমির ও ইমাদ ওয়াসিমের মতো তারকারা খেললেও, নতুন বিনিয়োগকারীরা আসার পর পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে।

বিশ্ব ক্রিকেটারদের সংগঠনের প্রধান নির্বাহী টম মফাট এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “মালিকদের নিয়োগের স্বাধীনতা থাকলেও তা অবশ্যই ন্যায়বিচার ও সম্মানের নীতির ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।” এদিকে ম্যানচেস্টার ও লিডসের মতো শহরগুলোতে দক্ষিণ এশীয় ও বিশেষ করে পাকিস্তানি জনগোষ্ঠীর বিশাল উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে নিজেদের দেশের প্রতিনিধিদের না পাওয়া সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করতে পারে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা লিগগুলোকে শক্তিশালী করলেও খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে জাতীয়তাকে প্রাধান্য দেওয়া খেলাটির স্পিরিটকে ক্ষুণ্ণ করছে। এর আগে মোস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআই-এর নির্দেশে কেকেআর ছাড়তে বাধ্য হওয়া কিংবা ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনও এই একই রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ বলে মনে করা হয়।

সব মিলিয়ে, দ্য হান্ড্রেডের আসন্ন নিলাম কেবল খেলোয়াড় বিক্রির আসর নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে বাণিজ্যিক আধিপত্য বনাম নৈতিক ন্যায্যতার এক বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.