প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মূল আসরে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এশিয়ার ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইকে সামনে রেখে কোনো খামতি রাখতে চায় না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দীর্ঘ ও নিবিড় প্রস্তুতির লক্ষ্যে টুর্নামেন্ট শুরুর দুই সপ্তাহ আগেই ঢাকা ছাড়বেন আফঈদা-সাবিনারা। সিডনির মূল মঞ্চে নামার আগে থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় কন্ডিশনিং ক্যাম্প এবং প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার বাফুফে ভবনে নারী দলের এই ‘মিশন অস্ট্রেলিয়া’র বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম।
বাফুফের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকেই শুরু হচ্ছে দলের আনুষ্ঠানিক অনুশীলন। এরপর ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে দল। তবে সরাসরি অস্ট্রেলিয়া না গিয়ে প্রথমে থাইল্যান্ডে এক সপ্তাহের একটি ক্যাম্প করবে বাংলাদেশ। এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি সিডনিতে শুরু হবে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি।
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের প্রস্তুতির অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে স্থানীয় ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচ। ফাহাদ করিম জানান,
"২৬ ফেব্রুয়ারি সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ান 'এ' লিগের শক্তিশালী দল ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্স-এর বিপক্ষে একটি ক্লোজড ডোর প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এছাড়া থাইল্যান্ডেও একটি ম্যাচ খেলার চেষ্টা চলছে। সেটি সম্ভব না হলে অস্ট্রেলিয়াতেই দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজন করা হবে।"
পুরো প্রস্তুতির নীল নকশা সাজিয়েছেন প্রধান কোচ পিটার বাটলার। কোচের চাহিদা অনুযায়ী শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ নিশ্চিত করেছে বাফুফে। ফাহাদ করিমের মতে, অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ খেলা দেশ এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন; তাই তাদের ঘরোয়া লিগের দলগুলোর মানও অত্যন্ত উন্নত, যা বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য বড় পরীক্ষা হবে।
এদিকে, প্রস্তুতির শুরুতেই ক্যাম্পে যোগ দিচ্ছেন সুইডেন প্রবাসী ফুটবলার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। বুধবার থেকেই তাকে অনুশীলনে দেখা যাবে। এছাড়া ঘরোয়া লিগ থেকে আরও ২-৩ জন নতুন মুখ ক্যাম্পে ডাক পেতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ।
এশিয়ান কাপের 'বি' গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান।
- ৩ মার্চ: বনাম চীন (সিডনি)
- ৬ মার্চ: বনাম উত্তর কোরিয়া (সিডনি)
- ৯ মার্চ: বনাম উজবেকিস্তান (পার্থ)