আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কাটাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিসিবি তাদের পূর্বের অবস্থানে অনড় থেকে আইসিসিকে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগ ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে না খেলে নিজেদের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্রুপ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে।
বৈঠকে অংশ নিতে শনিবার ভোরে ঢাকা পৌঁছান আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের অন্তর্বর্তীকালীন মহাব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। তবে ভিসা জটিলতার কারণে আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার (ইভেন্টস) গৌরব সাক্সেনা সশরীরে উপস্থিত হতে না পেরে ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন। মূলত বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই আইসিসির এই বিশেষ উদ্যোগ।
বিসিবি রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, লজিস্টিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে তারা আইসিসিকে গ্রুপ পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে থাকলেও, তারা ‘সি’ গ্রুপে (যেখানে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে রয়েছে) অন্তর্ভুক্ত হতে চায়। যেহেতু এই গ্রুপের সবকটি ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে, তাই গ্রুপ পরিবর্তনের মাধ্যমে ভারত সফর এড়িয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করছে বোর্ড।
বৈঠকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা স্পষ্টভাবে জানান, বাংলাদেশি দল, সমর্থক ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিসিবি কোনোভাবেই ভারতে খেলতে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, "ন্যূনতম লজিস্টিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধান সহজ করতে দলকে ভিন্ন গ্রুপে স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা ও পেশাদার পরিবেশে আলোচনা হয়েছে।"
বৈঠকে বিসিবির পক্ষে সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। আইসিসি প্রতিনিধি দল ঢাকা ত্যাগের পর এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উভয় পক্ষই সংকট নিরসনে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছে।