পশ্চিমবঙ্গের একটি গির্জার ছাদে উঠে উগ্রপন্থী যুবকদের গেরুয়া পতাকা ওড়ানো এবং ক্রুশ ভাঙচুরের চেষ্টা। ফাইল ছবি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের পর এবার সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ উঠেছে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে। রাজ্যটির বিভিন্ন জেলায় ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে একের পর এক গির্জায় হামলা, ভাঙচুর ও উপাসকদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া ও পূর্ব বর্ধমানে ঘটে যাওয়া এসব ধারাবাহিক সহিংসতায় স্থানীয় খ্রিস্টানদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুভাষ গ্রামের একটি নির্মাণাধীন গির্জায়। সেখানে একদল উগ্রপন্থী ধর্মীয় স্লোগান দিতে দিতে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং একাধিক পবিত্র ক্রুশ ভেঙে ফেলে। একই দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের একটি মিজোসিন গির্জাতেও হামলা চালিয়ে জানালার কাচ ভাঙচুর, বেদি অপবিত্রকরণ এবং বাদ্যযন্ত্র নষ্ট করে দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে সেখানে আর কোনো প্রার্থনাসভা না করার হুমকি দিয়ে দেওয়ালে বার্তাও লিখে গেছে হামলাকারীরা।
সহিংসতার এই বিস্তার কেবল দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মুর্শিদাবাদে খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে ধর্ম পরিবর্তনে অস্বীকৃতি জানানোয় এক খ্রিস্টান বিধবা নারীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় এবং একটি হিন্দু মন্দির নির্মাণের জন্য তাঁকে জমি ছেড়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বাঁকুড়ায় খ্রিস্টানদের একটি প্রার্থনা সভায় বাধা দিয়ে পবিত্র বাইবেল জব্দ করা হয় এবং নারী ও শিশুসহ উপাসকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
পূর্ব বর্ধমানের ফরিদপুরের ‘গ্রেস চার্চে’ উপাসনা চলাকালীন হামলার পর পুলিশ এসে যাজক সুরজিত ঘোষসহ কয়েকজন সদস্যকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এই নজিরবিহীন ও ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের খ্রিস্টানদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘বেঙ্গল খ্রিস্টান কাউন্সিল’ তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
খ্রিস্টান কাউন্সিলের এক শীর্ষ নেতা এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত গির্জাগুলোকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেব। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি—অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং খ্রিস্টানদের উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে সংখ্যালঘু উপাসনালয়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসন কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এখন সেটিই দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: ক্লিক করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
