দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনের কাছে সমো শহরে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটিতে যখন আগুন লাগে, তখন ভেতরে সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। এ ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি গুরুতর দগ্ধ হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাইকমিশন ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মুন্সিগঞ্জ জেলায়। নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়নের চারজন এবং বক্তাবলী ইউনিয়নের একজন রয়েছেন। স্বজনদের মৃত্যুতে নিহতদের নিজ নিজ এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা সবাই একে অপরের আত্মীয় এবং জীবিকার তাগিদে একসাথে ওই দোকানে কাজ করতেন।
নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন আলী বলেন, "আমরা খবরটা শোনামাত্রই স্তব্ধ হয়ে গেছি। একই পরিবারের ও একই এলাকার এতো তরুণ একসঙ্গে পরবাসে আগুনে পুড়ে মারা যাবে, তা মানা কঠিন। পুরো ইউনিয়নে এখন শোকের মাতম চলছে।"
ঘটনার আকস্মিকতায় অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এটি স্রেফ দুর্ঘটনা নাকি কোনো পরিকল্পিত নাশকতা, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি দেশটির পুলিশ।
প্রিটোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফী সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "ভোররাতে একটি দোকানে সাতজন ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা অবস্থায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এর মধ্যে ছয়জন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং একজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, সে বিষয়ে আমরা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।"
দুর্ঘটনাস্থলটি রাজধানী প্রিটোরিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ঘটনার পরপরই সেখানে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ মিশনের একটি পর্যবেক্ষণ দল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ প্রিটোরিয়া মিশন নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।