মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদ আর ড্রোনের ছড়াছড়িতে এবার অকালে প্রাণ হারালেন দুই প্রবাসী শ্রমিক। ওমানের সোহার প্রদেশে একটি ড্রোন ভূপাতিত করার সময় সেটির ধ্বংসাবশেষ সরাসরি একটি শিল্প এলাকায় আছড়ে পড়লে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় একই সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকা লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলা প্রতিহত করার খবর পাওয়া গেছে, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ওমান নিউজ এজেন্সি (ওএনএ) নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) সোহার প্রদেশের আল-ওয়াহি শিল্প এলাকায় একটি অনুপ্রবেশকারী ড্রোন ভূপাতিত করে ওমানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে ধ্বংসাবশেষটি জনাকীর্ণ শিল্প এলাকায় পড়লে ঘটনাস্থলেই দুই প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একই প্রদেশের অন্য এলাকায় আরও একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, তবে সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ড্রোনগুলো কোথা থেকে এসেছে বা কার নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে মাস্কাট।
ওমানের রেশ কাটতে না কাটতেই সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রিয়াদের স্পর্শকাতর কূটনৈতিক এলাকায় ড্রোন হামলার চেষ্টার খবর নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, রিয়াদের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই একটি ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া দেশটির মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় আকাশসীমায় আরও আটটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে সৌদি আরবের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই সিরিজ ড্রোন হামলাকে বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টা হিসেবে দেখছে রিয়াদ।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যকার চলমান 'প্রক্সি ওয়ার' বা ছায়া যুদ্ধ এখন আর সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ নেই। উন্নত ড্রোনের অবাধ ব্যবহার সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে ওমানের মতো তুলনামূলক স্থিতিশীল রাষ্ট্রে ড্রোনের আঘাতে প্রবাসীদের মৃত্যু এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এই ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং আকাশপথে হামলার বিস্তার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা