পরবাসে আরও এক বিভীষিকা। পবিত্র রমজানের প্রস্তুতির মাঝেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে মালদ্বীপের প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোতে। দ্বীপরাষ্ট্রটির দিঘুরা আইল্যান্ডে সেহরির রান্না করার সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাতে যখন প্রবাসীরা সেহরির খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই কোয়ার্টারের রান্নাঘরে গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পুরো কোয়ার্টারে। এতে সেখানে অবস্থানরত সাতজন বাংলাদেশি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। বাকি ৩১ জন প্রবাসী অন্য কক্ষে ঘুমিয়ে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেলেও প্রত্যক্ষ করেন সহকর্মীদের আর্তনাদ।
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন শুক্রবার (১৩ মার্চ) এই শোকাবহ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই দগ্ধদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত হতভাগ্য প্রবাসীরা হলেন— তাজ উদ্দিন ইসলাম, সদর আলী, রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও নূরনবী সরকার। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেনকে রাজধানী মালের আইজিএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর সোহেল পারভেজ জানান, "আহতদের মধ্যে একজনকে আইসিইউতে এবং অন্যজনকে জরুরি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।"
হাইকমিশন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং মরদেহগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জীবিকার তাগিদে দেশ ছেড়ে সমুদ্রপারের দেশে গিয়ে এভাবে অকাল মৃত্যুতে নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।