ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘাতে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের আগুনের আঁচ এবার লাগল কুয়েতেও। শনিবার সন্ধ্যায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান সমর্থিত ড্রোন হামলায় চার প্রবাসী বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় পরবাসে কর্মরত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক হতাহতের ঘটনায় প্রবাসী কমিউনিটিতে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত প্রবাসীদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে এবং তাঁদের মনোবল জোগাতে আজ রোববার (১ মার্চ) কুয়েতের ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে যান নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন। তিনি চিকিৎসাধীন রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং তাঁদের চিকিৎসার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনার পাশাপাশি দূতাবাস থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
হামলায় আহত চার প্রবাসী হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাঁথিয়ার রকিবুল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান এবং কুমিল্লার হোমনাকান্দির দুলাল মিয়া।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় শক্তিশালী বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় আমিনুল ইসলামের হাঁটুতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। অন্য তিন প্রবাসী বিস্ফোরণে চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়া কাঁচের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।
শনিবারের এই ড্রোন হামলার পর কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট অপারেশন সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দেশটির সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কারের কাজ পুরোদমে চলছে। যত দ্রুত সম্ভব আকাশপথ সচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।