বিএনপি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঘরোয়া বিভেদ এখন সর্বসমক্ষে চলে এসেছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিজয়ী সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের দায়িত্ব নেওয়ার পটভূমিতে তাঁকে ফোরাম থেকে অব্যাহতির পর দ্বন্দ্ব আর ছাইচাপা দেওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘদিন অভ্যন্তরীণ কলহের কারণে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এখন ফাটলের মুখে। ফোরাম এখন দু’ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ বলছে, ব্যারিস্টার খোকনকে অব্যাহতি দেওয়ায় ফোরামের কোনো ক্ষতি হবে না। অন্যপক্ষ বলছে, সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ ঘটনার সূত্রপাত। যে কোনো সময় দুই গ্রুপের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, দলের আইনজীবীদের মধ্যে এ বিভেদ প্রভাব ফেলছে বিএনপির মধ্যেও। দলেও দ্বিধাবিভক্তি দেখা গেছে। অনেকে ব্যারিস্টার খোকনের পক্ষে, অন্যরা ব্যারিস্টার কায়সার কামালের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি এ ইস্যুতে গত সোমবার স্থায়ী কমিটির সভাতেও আলোচনা করেন নেতারা।
সেখানেও বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত হয়। কয়েকজন সদস্য বলেন, এটি আইনজীবী ফোরামের এখতিয়ার। এ নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে আলোচনার সুযোগ নেই। অন্যদিকে অন্তত তিনজন সদস্য বলেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম বিএনপিপন্থি সংগঠন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা এর নেতৃত্বে রয়েছেন। এ সংগঠন নিয়ে বিএনপিকেও নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মূলত নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থেকে কোন্দল সৃষ্টি বলেও তারা মনে করছেন। তারা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বেশ কয়েকজন আইনজীবীর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন।
সূত্র জানায়, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার খোকনসহ নির্বাচিত চারজনকে দায়িত্ব না নিতে আহ্বান জানানো হয়েছিল। নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে– এমন অজুহাত দেখিয়ে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে তাদের আন্দোলন শুরু করার আহ্বানও জানানো হয়েছিল। তবে ব্যারিস্টার খোকন সেদিকে যাননি। দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে তিনি সভাপতির দায়িত্ব নেন। এ কারণে গত শনিবার ব্যারিস্টার খোকনকে ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।