শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ফাইল ছবি
আগামী শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির 'বাংলা সাহিত্য' পাঠ্যপুস্তকে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের লেখা বিখ্যাত নিবন্ধ 'স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি' এবং তাঁর তৎকালীন ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির ছবি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। গত ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে, যা ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এনসিটিবি চেয়ারম্যান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, "যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।" নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ২২ নম্বর গদ্যের নিবন্ধটিতে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা, চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণার প্রত্যক্ষ স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক ও ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত পাঠ্য অংশে মূল নিবন্ধের পূর্বে একটি বিশেষ ব্যাখ্যার সংযোজন করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিকামী মানুষের জন্য 'তুর্যধ্বনির মতো'। একই সাথে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমেদকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিনির্মাণের অনিবার্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে একটি সর্বাত্মক 'জনযুদ্ধ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নিবন্ধটিতে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ রাতে তৎকালীন মেজর জিয়ার ঐতিহাসিক 'উই রিভোল্ট' বলে সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা, পটিয়ার পাহাড়ে প্রথম মুক্তাঞ্চল গঠন এবং ২৭শে মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক বার্তা প্রচারের স্মৃতিচারণ বস্তুনিষ্ঠভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি লিখেছেন, "হাতের কাছে একটি এক্সারসাইজ খাতা পাওয়া গেল। তার একটি পৃষ্ঠায় দ্রুতহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণার কথা লিখলাম... বেতার তরঙ্গের সে ঘোষণা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রেডিওতে ধরা পড়ল।"
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, "এনসিসিসি সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও নির্মোহ ইতিহাস জানতে পারবে।" শিক্ষাবিদদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে অতীতে গড়ে ওঠা একপাক্ষিক ইতিহাস চর্চার অবসান ঘটিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে এই সংযোজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, "জিয়াউর রহমানের লেখা এই নিবন্ধে ঐতিহাসিক মূল্য আছে। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে। পাঠ্যবইয়ে এটি অন্তর্ভুক্ত করা যৌক্তিক।" ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদও মন্তব্য করেন যে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বস্তুনিষ্ঠ ও নির্মোহ ইতিহাস জানার পথ উন্মুক্ত হলো।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
