বুধবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বাধার মুখে পড়েন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি সরকারের তীব্র সমালোচনা ও অতীত কর্মকাণ্ডের তীব্র বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে চরম উত্তেজনা, তুমুল হট্টগোল ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর ওপর আলোচনাকালে সরকারি দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্যদের তুমুল বাধার মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে স্পিকারের কাছে বিচার দাবি করেন এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য।
বুধবার বিকেলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বিলটির ওপর আলোচনা চলাকালে রুমিন ফারহানা বিএনপি সরকারের গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, সারের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি বৃদ্ধির ইতিহাস তুলে ধরে বক্তব্য শুরু করতেই সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংসদ সদস্যের বক্তব্যে বাধা প্রদানকে গণতান্ত্রিক রীতিনীতিবিরোধী আখ্যা দিয়ে ডেপুটি স্পিকার ও অন্যান্য বিরোধীদের তোপের মুখে পড়ে সরকারি দল।
রুমিন ফারহানা বলেন, “এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন আমরা আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তারাও হট্টগোল করত; এখন বিএনপি একই ধরনের ও আরও খারাপ আচরণ করছে।” তিনি আরও বলেন, সংসদের বেশির ভাগ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত এবং নির্বাচনের আগে রিট করে নাম কাটানো পুরোনো সংস্কৃতি।
এ সময় নির্ধারিত সময় শেষ হলে রুমিনের মাইক বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তিনি মাইক ছাড়াই স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অশালীন ভাষায় গালাগালের অভিযোগ তুলতে থাকেন। এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, মাইক ছাড়া একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “একজন সদস্যের কথা বলার স্বাধীনতা আছে। বক্তব্য অসংসদীয় হলে তা এক্সপাঞ্জ করা হবে, কিন্তু বাধা দেওয়া কাম্য নয়। হাউসের শৃঙ্খলা রাখাই চিফ হুইপের মূল দায়িত্ব।”
পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ঘটনাটিকে হতাশাজনক আখ্যা দিয়ে সদস্যের বাকস্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেন। অন্যদিকে, বিলের ওপর আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘটনাটিকে দুঃখজনক এবং সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা বলে মন্তব্য করেন।
সংসদীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হলেও পরে অন্যান্য সদস্যদের অংশগ্রহণে বিলের ওপর আলোচনা পুনরায় শুরু হয়। তবে অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের আচরণ ও স্বাধীন বক্তব্যের ওপর সরকারি দলের এমন বাধাদানের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
