জনভোগান্তি নিরসন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবিতে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমাবেশের পর সকাল আটটার দিকে এই বহর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। মহাসড়কের মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজার তথ্যানুযায়ী, লংমার্চের বহরে প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক বড় মাইক্রোবাস, কার, জিপ ও বাসসহ ৬০০-এর কিছু বেশি যানবাহন আনুষ্ঠানিকভাবে টোল পরিশোধ করে পার হয়েছে।
শুরুতে পাঁচ থেকে ছয় হাজার গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চের কথা থাকলেও জ্বালানিসংকট ও মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে এক হাজারে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় জোটটি। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের টোল আদায় সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, সেতু দুটি পার হওয়া এই যানবাহনগুলো থেকে সরকারের ৪০ হাজার টাকার বেশি টোল আদায় হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সওজের একাধিক কর্মকর্তা জানান, লংমার্চের গাড়িগুলো কোনো বাধা ছাড়াই সুশৃঙ্খলভাবে এবং নির্ধারিত টোল দিয়ে সেতু অতিক্রম করেছে।
লংমার্চের সার্বিক গতিপথ ও পথসভা সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে রওনা হওয়া বহরে পথিমধ্যে কুমিল্লা, ফেনী ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার গাড়ি যুক্ত হয়ে বহরটি আরও বড় রূপ নেয়। যাত্রাপথে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ধারাবাহিক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। লংমার্চটি রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছে ঐতিহাসিক লালদীঘির ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
লংমার্চে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ শীর্ষ নেতারা। জোটের নেতারা জানান, অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধের এই ৬ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।