বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশ্ন তুলেছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময়ে যারা ‘গুপ্ত’ অবস্থায় লুকিয়ে ছিল, তাদের ছায়াতলে থেকেই ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারীরা দেশে নতুন করে অরাজকতা উসকে দিচ্ছে কি না। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্যাকে পুঁজি করে কেউ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্টের চেষ্টা করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের সময় যারা ‘গুপ্ত’ অবস্থানে ছিল, তাদের সহায়তায় ক্ষমতাচ্যুত শক্তি আবার সামনে আসার ষড়যন্ত্র করছে। এই রাজনৈতিক মেলবন্ধনকে ‘ভাইস ভার্সা গুপ্ত বাহিনী’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে ১৯৮৬, ১৯৯৬ এবং বিগত এক যুগেও তারা একে অপরকে আড়াল করেছে। তিনি জানান, “একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—প্রত্যেকের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।”
বিগত স্বৈরাচার ও অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে একটি ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি’ ও মারাত্মক জ্বালানি সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী জনগণের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, নিত্যপণ্যে শুল্ক হ্রাস এবং পরিবেশ রক্ষায় আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সরকারি পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই কার্যকর হতে শুরু করেছে।
২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব জনগণকে উৎসর্গ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ‘টেকসই গণতন্ত্র’ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সুসংহত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, মির্জা আব্বাস, ইসমাইল জবিউল্লাহসহ বিএনপি ও মন্ত্রিসভার শীর্ষ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।