রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্র কেন্দ্রিক বিতর্কের পর সৃষ্ট পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে এক বিতর্কিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে চরম হট্টগোল ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃতি ও ১ দফার ঘোষক হিসেবে বিএনপির নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের সামনেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৈরি একটি তথ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহাসিক ভূমিকা, ঐতিহাসিক ৯ দফা দাবি এবং ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ঘোষিত ১ দফার মূল প্রেক্ষাপট এড়িয়ে যাওয়া এবং ১ দফার ঘোষক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উপস্থাপনের অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত এনসিপির নেতা-কর্মী ও জুলাই যোদ্ধারা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ ও স্লোগান দেওয়া শুরু করলে পুরো মিলনায়তনে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, "তথ্যচিত্রে ১ দফার ঘোষক বানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। যে নাহিদ ইসলাম নিজের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করে ১ দফার ঘোষণা দিলেন, তিনি বিএনপির ইতিহাসে নেই। যে আসিফ মাহমুদ মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ ঘোষণা করলেন, তিনি ইতিহাসে নেই।" হট্টগোলের সময় রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকেরা তাঁর ওপর হামলা চালান বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান মঞ্চে উঠে সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং তথ্যচিত্রে ভুল থাকলে তা সংশোধনের আশ্বাস দেন। কিন্তু ক্ষোভ প্রশমিত না হলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন কড়া ভাষায় প্রতিবাদকারীদের থামানোর চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাইকে এসে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে কথা বলার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, "রাষ্ট্রীয় একটা প্রোগ্রামেও আমরা ইতিহাসের সবকিছুকে ধারণ করতে ব্যর্থ হলাম। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে যেমন একপেশেভাবে আওয়ামী লীগ দখল করেছিল, ঠিক একই ধরনের একটা পরিস্থিতি এখানেও তৈরি হয়েছে। যেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ৯ দফা ও ৩ আগস্টের ১ দফার ঘোষণা অনুপস্থিত, সেখানে আমাদের অবস্থান করা সম্ভব নয়।"
মঞ্চে উঠে আখতার হোসেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে সম্মান জানিয়ে নীরবে অনুষ্ঠান প্রস্থান করার ঘোষণা দেন। তিনি মঞ্চ ত্যাগ করার সময় এনসিপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিকদের একাংশ অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান।
প্রধান অতিথি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "এইভাবে বিদেশের সামনে, বিদেশি অতিথিদের সামনে যে নাস্তানাবুদ হলাম, এটি আমাকে খুবই ব্যথিত করেছে। এবং এই ঘটনায় সবচেয়ে খুশি হবেন তিনি, যিনি পাশের দেশে বসে আছেন।" তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের প্রতীক শহীদ আবু সাঈদ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "আমরা যদি বলি জুলাই কার? জুলাই কার? তাহলে জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।"
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অনুষ্ঠান পরিচালকদের প্রচেষ্টায় পরবর্তীতে পরিবেশ কিছুটা শান্ত হলেও, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস উপস্থাপন নিয়ে নতুন করে তীব্র রাজনীতিক বিতর্ক ও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
