ছবি: সংগৃহীত
গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা ও রাজনৈতিক নানা চড়াই-উৎরাইয়ের পর পদত্যাগ করেছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। মেয়াদ শেষের পৌনে দুই বছর আগেই শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপ্রধানদের তালিকায় যুক্ত হলেন সপ্তম ব্যক্তি। এই পদত্যাগের পর সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেরিত পদত্যাগপত্রে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও শারীরিক অসামর্থ্যতার কথা উল্লেখ করে মো. সাহাবুদ্দিন লিখেছেন, "আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। ইদানীং অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগে মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে পড়ি। শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন সম্ভব হচ্ছে না।"
স্বাধীনতার পর থেকে দেশে ২২ মেয়াদে মোট ১৮ জন ব্যক্তিত্ব রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, এরশাদ সরকারের আমলে ১৯৮২ সালে বিচারপতি আবদুস সাত্তার এবং ১৯৮৩ সালে বিচারপতি আ ফ ম আহসানউদ্দিন চৌধুরী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এছাড়া ১৯৯০ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নব্বইয়ের পর সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর ২০০২ সালে প্রথম পদত্যাগ করেছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
তবে মো. সাহাবুদ্দিনের এই বিদায় আগের সব প্রেক্ষাপট থেকে একদম ভিন্ন। সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার এই ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, "২০০২ সালে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পেছনে তাঁর নিজ দলীয় সরকারের সাথে মতপার্থক্য মূল কারণ ছিল। কিন্তু এবার বিরোধী রাজনৈতিক দল বা পরিবর্তিত রাজনৈতিক শক্তির মনোনীত রাষ্ট্রপতির পদে থাকার পর ভিন্ন এক দলীয় সরকারের আমলে পদত্যাগের ঘটনা এটিই প্রথম।"
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। কিন্তু দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা ও রাজনৈতিক চাপ মিলিয়ে অবশেষে তিনি বঙ্গভবন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অধীনে আয়োজিত এই পরোক্ষ নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন। জাতীয় সংসদে বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
