ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, "আমার মনে হয়। তিনি মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সব সময় সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।"
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
পদত্যাগপত্রের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন জানান, বিকেল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগপত্রটি দাখিল করা হয়। এতে সাবেক রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন যে তিনি হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনিজনিত জটিলতা এবং সাম্প্রতিক শনাক্ত হওয়া ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগে ভুগছেন, যার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন। এই শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতার কারণে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে পদত্যাগ নিয়ে ওঠা বিভিন্ন আলোচনার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, "রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি গুরুতর ঘটনা এবং এর সঙ্গে দেশের ভালো-মন্দ জড়িত। তিনি নিজেই পদত্যাগপত্রে তাঁর ব্যাধির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তাই এখানে কোনো ধরনের ধোঁয়াশা বা গুজবের সুযোগ নেই।"
সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ই প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের শপথ সম্পন্ন থাকে উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আরও বলেন, পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর তা সংসদ সচিবালয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।