দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নৈতিক স্খলনের দায়ে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত/ফেসবুক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয় এবং এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করার কথা জানিয়েছে দলটি। ৭৪ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিকের বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আইনি বাধ্যবাধকতা এবং তাঁর সংসদ সদস্য পদ বজায় থাকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গাজী নজরুল ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার রাজাধানীতে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংগঠনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিয়ের পূর্বে সংশ্লিষ্ট নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ‘পর্দা লঙ্ঘন’ করা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণ্ন করার দায়ে দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও সংবিধান অনুযায়ী গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতামত ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে কোনো সদস্য দল ত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে পদ শূন্য হওয়ার কথা বলা হলেও, দল থেকে বহিষ্কার করা হলে পদ থাকবে কি না সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে আদালত থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড ছাড়া আসন শূন্য হওয়ার বিধান নেই। তবে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেনের মতো বিশেষজ্ঞদের মতে, দলীয় টিকিটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য বহিষ্কৃত হলে তিনি আর পদে থাকার আইনি অধিকার রাখেন না। এই আইনি বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
এ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "তদন্তে গাজী নজরুলের নৈতিক স্খলন ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। শুধু রুকনিয়্যত বা পদ বাতিল করে এত বড় ক্ষতি লাঘব সম্ভব নয় বলেই তাঁকে চূড়ান্তভাবে দল থেকে বহিষ্কার করে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
এদিকে ভিডিও ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাজী নজরুলের নিজ নির্বাচনী এলাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ব্যানারে ও বিরোধী দলগুলোর সমর্থনে তাঁকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পল্লবী থানায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন তাঁর সাবেক গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, অনৈতিক সম্পর্কের বিরোধিতা করায় এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে ওবায়দুরকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এ মামলায় আমিনুর রহমান নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছানোর পর গাজী নজরুলের সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
