সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সৌজন্যে
সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভেঙে পড়া প্রাতিষ্ঠানিক ও অর্থনৈতিক ধ্বংসস্তূপ পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে এবং আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় শরিক দলগুলোর সাথে আরও নিয়মিত মতবিনিময় ও পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত প্রায় দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে সরকার পরিচালনা, শরিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয়, ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং আন্দোলনের সময় ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
নির্বাচনের আগে বিএনপি কর্তৃক ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের কথা বলা হলেও। সরকারে মাত্র ৩টি শরিক দলের প্রতিনিধি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দলগুলোর মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এই পটভূমিতে দীর্ঘদিনের কৌশলগত জোটকে সুসংহত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
বৈঠকে জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক, ববি হাজ্জাজ, আন্দালিভ রহমান পার্থ, সাইফুল হক, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এবং নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ যুগপৎ আন্দোলনের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা অংশ নেন। বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
জাতীয় ঐকমত্য ও সংস্কারের প্রশ্নে নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে জেএসডি এই বৈঠকে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে। জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, "জুলাই সনদ, গণভোট ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার আগে বিএনপির সঙ্গে পৃথক রাজনৈতিক বৈঠকে অংশগ্রহণ দলের নীতিগত অবস্থান ও জনগণের প্রতি প্রদত্ত অঙ্গীকার সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই জেএসডি এই মুহূর্তে প্রস্তাবিত বৈঠকে অংশ নিচ্ছে না।"
অন্যদিকে, বিএনপির সাথে নির্বাচনী সমঝোতা করা কওমিভিত্তিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও অভ্যন্তরীণ কৌশলগত কারণে তারাও বৈঠকে অংশ নেয়নি।
রুদ্ধদ্বার আলোচনায় কয়েকজন শরিক নেতা আমন্ত্রণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সংরক্ষিত নারী আসন ও স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগে ‘একলা চলো’ নীতি এবং রাষ্ট্র সংস্কারে সরকারের কিছুটা শ্লথগতি নিয়ে মুখ খোলেন। আলোচনা শেষে শরিকদের একজন রসিকতার সুরে এই আয়োজনকে ‘ফেয়ারওয়েল ডিনার’ কি না জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহাস্যে উত্তর দেন, "না, এটি মোটেও ফেয়ারওয়েল নয়। এটি আমাদের যৌথ যাত্রার ওয়েলকাম ডিনার।"
সরকারের সাফল্য, কৃষিঋণ, পরিবার কার্ড এবং খাল পুনঃখননের মতো জনকল্যাণমুখী কাজের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অগ্রাধিকারমূলক কাজের জন্য নিয়মিত বসা সম্ভব হয়নি। তবে শরিকদের সাথে যৌথভাবে আন্দোলনকালে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।
বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, "সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর এই বৈঠকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাইলফলক। দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের লড়াই, ত্যাগ ও আত্মত্যাগের স্মৃতি নিয়ে বৈঠকে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা সরকারের কার্যক্রমে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও দেশ পুনর্গঠনে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন।"
যৌথ আলোচনা ও পারস্পরিক কুশল বিনিময় শেষে শরিক নেতাদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জমে থাকা রাজনৈতিক বরফ গলানোর বার্তা দিয়ে শেষ হয় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
