× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সাড়ে ১৩ কোটি টাকার নগদ ও সম্পত্তি হস্তান্তরে শেখ হাসিনা কন্যা পুতুলের বিবাহবিচ্ছেদ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৫ এএম । আপডেটঃ ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ এএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটার বিচ্ছেদ-সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্য অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি দুবাই আদালতের নথি ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সম্পত্তির রেকর্ডে দেখা গেছে। ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি আদালতে স্বামী খন্দকার মাশরুর হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এই বিচ্ছেদ চুক্তির অংশ হিসেবে নগদ অর্থ ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার দুটি বাড়িসহ পুতুলকে প্রায় ১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার সমমূল্যের নগদ অর্থ ও সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়েছে।

তৎকালীন সময়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে না আসলেও। প্রাপ্ত আইনি নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে বিচ্ছেদ সমঝোতা অনুযায়ী খন্দকার মাশরুর হোসেন সায়মা ওয়াজেদকে নগদ আড়াই লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ কোটি টাকারও বেশি) পরিশোধ করেছেন। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট জনস কাউন্টি ও মেইটল্যান্ড এলাকায় অবস্থিত। যৌথ মালিকানাধীন প্রায় ১০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বাজারমূল্যের দুটি বিলাসবহুল বাড়ি পুতুলের একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘নেভা ইনকরপোরেটেড’-এর কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

দুবাই আদালতের ফ্যামিলি গাইডেন্স অ্যান্ড রিফর্মেশন বিভাগে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে, "বিয়ের সময় পাওয়া উপহার, ব্যক্তিগত আসবাবপত্র, পোশাক, অলঙ্কার ও অন্যান্য স্মারকও পুতুলকে ফিরিয়ে দিতে হবে। তিনি যেখানে নির্দেশ দেবেন, সেখানে এসব সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে খন্দকার মাশরুরের।"

নথি অনুযায়ী, এই দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই সন্তানের আইনগত অভিভাবকত্ব খন্দকার মাশরুর পেলেও। তারা সায়মা ওয়াজেদের কাস্টডি বা জিম্মায় থাকবে এবং তাদের যাবতীয় শিক্ষা ও জীবনযাপনের ব্যয় মাশরুর বহন করবেন। ১৯৯৫ সালে বিয়ের পর থেকে পুতুলের শ্বশুর ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক উত্থান শুরু হলেও।২০১৯ সাল থেকে পুতুল-মাশরুরের দাম্পত্য টানাপোড়েনের সমান্তরালে খন্দকার মোশাররফের রাজনৈতিক প্রভাবও কমতে থাকে। বিচ্ছেদের পর ২০২২ সালে মোশাররফের ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর গ্রেফতার হলে খন্দকার মোশাররফ দেশ ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে চলে যান।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদে থাকা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অন্তর্বর্তী সরকারের আপত্তির মুখে বর্তমানে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে রয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বর্তমানে কানাডার পাসপোর্ট ব্যবহার করে দুবাই ও দিল্লিতে মায়ের কাছে যাতায়াত করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পারিবারিক বিচ্ছেদের সাথে ক্ষমতার বলয়ের এই পতন ও সম্পত্তি স্থানান্তরের সামগ্রিক সমীকরণটি বাংলাদেশের সাবেক রাজনৈতিক অধ্যায়ে একটি বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.