শনিবার ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে 'জুলাই জাতীয় সম্মেলন'-এ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিচারের ঘোষণা দিয়ে বক্তব্য রাখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে খুব শিগগিরই বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আইনি সংশোধনের মাধ্যমে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে এবং দলটির বাংলাদেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করার সুযোগ নেই।
শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকার আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত 'জুলাই জাতীয় সম্মেলন'-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। 'জুলাই ’২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি' এবং 'আমরা জুলাই যোদ্ধা' যৌথভাবে এই বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার আপনারা এবং আমরা সবাই দাবি করেছি। বর্তমানে এর তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ (আর্টিকেল) অনুসারে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও আইসিটি অ্যাক্টেও (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন) রাজনৈতিক সংগঠনের বিচার করার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। সুতরাং, আপনারা অপেক্ষা করুন—খুব শিগগিরই দল হিসেবে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।”
জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে যেন আমরা কেউ ব্যবসা না করি। যারা এই মহান চেতনা বিক্রি করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে, ইতিহাস স্বাক্ষী, ভবিষ্যতে তাদের ভয়াবহ পরিণতি দেখতে হবে।” এই প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করত, তারা আজ দিল্লি গিয়ে বসে আছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের উৎখাত করেছে। চেতনা বিক্রির রাজনৈতিক ফায়দা কখনো ভালো হয় না।”
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “কিছু পর্দার আড়ালের কথা আজ অবমুক্ত করতে চাই। আমি ও আমাদের নেতা তারেক রহমান দুজনেই নির্বাসিত ছিলাম। ২৪ ঘণ্টা সমন্বয় করে আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছি এবং জুলাই যোদ্ধাদের সম্মুখে রেখে অরাজনৈতিক পরিচয়ে আন্দোলনকে বেগবান করেছি। ১৬ জুলাই যখন আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়, তখন আমাদের নেতা তারেক রহমান এক দফা—স্বৈরাচারের পদত্যাগের ডাক দেন।”
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার মামলার সবশেষ আইনি অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হয়েছে। ২৭টি মামলা বিচারাধীন এবং আরও ৭২টি মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথম মামলার রায়ে গণহত্যার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। এছাড়া আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো ও চাঁনখারপুলে হত্যা মামলায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার হাবিবসহ অন্যান্য দোষীদের মৃত্যুদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়েছে। অতি সম্প্রতি স্বৈরাচারের দোসর হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য বাদীপক্ষ আপিল করবে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার হাসপাতাল থেকে নথিপত্র গায়েব করে অনেককে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছে, যার কারণে বহু স্বজন আজও তাঁদের প্রিয় মানুষের কবরের সন্ধান পাননি। এত বড় নৃশংসতার পরও শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই এবং তারা এই গণঅভ্যুত্থানকে 'জঙ্গি তকমা' দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “শহীদ হওয়ার মাত্র দুইদিন আগে ওয়াসিম শিলংয়ে আমাকে দেখতে গিয়েছিল। দেশ স্বাধীন করতে সে নিজের জীবন বিলিয়ে দিল। তার মা আজ দেশের কাছে আগে সব খুনের বিচার চেয়েছেন।” তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকার আর এমন ফ্যাসিবাদী আচরণ করার সাহস না পায়। তা নিশ্চিত করা হবে।
জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান এবং শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেইনসহ অন্যান্য শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
