× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কারিগরি ত্রুটি ও কয়লা সংকটে বন্ধ ২ বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকাতেও লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৯ জুন ২০২৬, ০২:০৫ এএম । আপডেটঃ ২৯ জুন ২০২৬, ০২:০৬ এএম

জাতীয় সংসদে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

কারিগরি ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র আকস্মিক বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রায় ৩,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী দুই দিন ঢাকায় সূচি অনুযায়ী লোডশেডিংয়ের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংকট কাটিয়ে ওঠার জোরালো আশা ব্যক্ত করেছেন।

রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই সংকটের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেন। 

সংসদকে মন্ত্রী জানান, আকস্মিক এই বিপর্যয়ের পেছনে দুটি ভিন্ন কারণ রয়েছে। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের টিউবে ‘লিক’ বা ছিদ্র হওয়ায় বাধ্যতামূলকভাবে সেটির উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় সময়মতো কয়লা খালাস করা সম্ভব হয়নি; ফলে জ্বালানি সংকটে দ্বিতীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদনও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে কৌশলগত কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্র দুটির নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি তিনি।

চলতি এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে একটি ‘জাতীয় সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, "এটি একটি আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত জাতীয় সংকট। দল-মত নির্বিশেষে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংকট উত্তরণের চেষ্টা করতে হবে। আমাদের প্রকৌশলীরা দিনরাত কাজ করছেন। আমি আশা করি, আগামী দুই দিনের মধ্যে উৎপাদন স্বাভাবিক হবে এবং লোডশেডিংয়ের প্রকোপ কমে আসবে।"

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করে ৩,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের শিল্পোৎপাদন এবং জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও জরুরি সেবা খাতগুলোকে সচল রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের একটি সাময়িক রুটিন তৈরির কাজ চলছে, যাতে নাগরিক ভোগান্তি সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও সাগরের প্রতিকূল আবহাওয়ার ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই, তবে বিকল্প জ্বালানি ও ব্যাক-আপ গ্রিডের সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। আপদকালীন এই সংকট মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। আগামী দুই দিনের মধ্যে সমুদ্রের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং বয়লারের ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হলে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার আগের অবস্থায় ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.