× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

শেরপুর সদর হাসপাতাল নিজেই এখন আইসিইউতে: সংসদে প্রিয়াঙ্কা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন রিপোর্ট

০৭ জুন ২০২৬, ২২:৩৭ পিএম । আপডেটঃ ০৭ জুন ২০২৬, ২২:৪০ পিএম

সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। ফাইল ছবি

তীব্র জনবল সংকট, চরম অব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের অপব্যবহারের কারণে শেরপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। রবিবার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, যে হাসপাতাল মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা, সেই হাসপাতালটি আজ নিজেই ‘আইসিইউতে’ চলে গেছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে শেরপুরের ১৭ লাখ মানুষের একমাত্র প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্রের করুণ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, চরাঞ্চলের দুর্গম কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিয়ে অসুস্থ মানুষ, মুমূর্ষু রোগী কিংবা গর্ভবতী মায়েরা শেষ আশায় এই হাসপাতালে এলেও ন্যূনতম শয্যা বা বেড পান না। ফলে বাধ্য হয়ে তীব্র ভোগান্তির মুখে রোগীদের দিনের পর দিন হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা কিংবা করিডোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

ডা. প্রিয়াঙ্কা সংসদকে জানান, শেরপুর সদর হাসপাতালে সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টি পদের সবকটিই বর্তমানে শূন্য। অথচ এই চরম জনবল সংকটের মধ্যেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০০ বহির্বিভাগের রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বরত সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এমনকি জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও কোনো চালক নেই এবং নয় তলা আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলেও রোগীদের ওঠানামার জন্য পর্যাপ্ত লিফটের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা সংসদে বলেন, "করোনাকালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটিতে আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় কারিগরি ও চিকিৎসাকাজে দক্ষ জনবল না থাকায় কোটি কোটি টাকার এই জীবনরক্ষাকারী ইউনিটগুলো এখন সম্পূর্ণ অকেজো ও তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে আছে। এটি কেবল রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ই নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ মেয়াদে তালাবদ্ধ থাকায় ওই আধুনিক আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিটগুলো বর্তমানে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সেখানে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে এবং হাসপাতাল থেকে মূল্যবান ও সংবেদনশীল চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। সামগ্রিকভাবে হাসপাতালের একটি বড় অংশ এখন দালাল, চোর, ছিনতাইকারী ও মাদক চক্রের দখলে চলে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালের ঠিক পাশেই অবস্থিত ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো তীব্র দুর্গন্ধ রোগী ও তাদের সাথে আসা স্বজনদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং মানসিক দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। ২০১৮ সালের পর থেকে এই দীর্ঘ সময়ে হাসপাতালটিতে স্বাস্থ্য বিভাগের নতুন কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। গত আট বছরে ছয়বার নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও অজ্ঞাত কারণে প্রতিবারই তা স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বক্তব্যের শেষাংশে সংসদ সদস্য ডা. প্রিয়াঙ্কা শেরপুর সদর হাসপাতালের এই অচল দশা দ্রুত দূর করতে, শূন্য পদে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে এবং আইসিইউ-সিসিইউ ইউনিট চালুসহ হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.