তারেক রহমানের ওপর ওয়ান-ইলেভেনকালীন নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বিচার দাবি করছেন সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর চালানো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কেন একজন নেতার ‘কোমর ভেঙে দেওয়া’ হয়েছিল এবং চোখ বেঁধে অমানবিক কায়দায় তাকে শারীরিক আঘাত করা হয়েছিল। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি এই ঐতিহাসিক অন্যায়ের প্রতিকার দাবি করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই আমান উল্লাহ আমান ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর চালানো দমন-পীড়নের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “কী দোষ ছিল তারেক রহমানের যে তার কোমর ভেঙে দিতে হলো? কী দোষ ছিল যে চোখ বেঁধে তাকে টাঙিয়ে ওপর থেকে ফেলে দেওয়া হলো?” তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন সেনাসমর্থিত সরকারের আক্রোশের শিকার হয়ে কেবল তারেক রহমানই নন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকেও রিমান্ডে নেওয়ার পর স্ট্রেচারে করে ফিরতে হয়েছিল। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শারীরিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার সেই অপচেষ্টাকে তিনি ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা কেবল বর্তমানের নয়, বরং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই বিস্তৃত ছিল বলে দাবি করেন আমান। তিনি জানান, যখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গৃহবন্দি ছিলেন, তখন তারেক রহমানই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের কাছে আন্দোলনের দিকনির্দেশনা সম্বলিত চিরকুট পৌঁছে দিতেন। আমান উল্লাহ আমানের মতে, তারেক রহমানের সেই গোপন ও সাহসী ভূমিকার কারণেই নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত রূপ পেয়েছিল।
বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকেও তারেক রহমান কীভাবে গত ১৭ বছর বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন এই সংসদ সদস্য। আমান বলেন, “গত ১৭ বছরের আন্দোলনে তিনি বিদেশ থেকেই আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তার আহ্বানেই আমরা ‘বিনা ভোটের এমপি’ ও অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছি। শেষ পর্যন্ত জনতা সেই অবৈধ শক্তিকে বিদায় করতে সক্ষম হয়েছে।”
আমান উল্লাহ আমানের এই আবেগঘন বক্তব্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে এক গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তারেক রহমানের ওপর চালানো সেই শারীরিক নির্যাতনের ক্ষত এখনো দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অম্লান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে এই নির্যাতনের বিচার দাবি কেবল একজন নেতার প্রতি সহমর্মিতা নয়, বরং দেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বন্ধ করার একটি জোরালো আহ্বান। ইতিহাসের সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনাই এখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
