ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ফাইল ছবি
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের দীর্ঘতম সময়ের অভিভাবক এবং জাতীয় সংসদের প্রথম নারী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি অন্যতম হাই-প্রোফাইল আটকের ঘটনা, যা দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
ডিবি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে ধানমন্ডিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম আজ সকালে গণমাধ্যমকে জানান, "সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আমাদের হেফাজতে রয়েছেন এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
তবে কোন সুনির্দিষ্ট মামলায় তাঁকে আটক দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে ডিবি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করেনি।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেত্রী। সরকার পতনের ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর তিনি স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে সহিংসতার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিশেষ করে, রংপুরে আন্দোলন চলাকালে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন (৩৮) নিহতের ঘটনায় ২৭ আগস্ট একটি হত্যা মামলা করা হয়। মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে দায়েরকৃত এই মামলায় ড. শিরীন শারমিন ছাড়াও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই মামলার অন্যতম আসামি টিপু মুনশি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ছিল উল্কাসমান। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি প্রথমে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তৎকালীন স্পিকার আব্দুল হামিদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে, দেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসের পাতায় নাম ওঠে। এরপর থেকে টানা এক যুগেরও বেশি সময় তিনি জাতীয় সংসদের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়নগুলোতেও বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন উচ্চশিক্ষিত ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও, জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের সময় সংসদের ভূমিকা এবং পরবর্তী আইনি দায়বদ্ধতা তাঁকে এই সংকটের মুখোমুখি করেছে। তাঁর এই আটকাদেশ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তৃণমূল থেকে বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত একজন স্পিকারের ডিবি কার্যালয়ের চার দেয়ালের ভেতরে রাত কাটানো কেবল একজন ব্যক্তির পতন নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পালাবদলের ইঙ্গিত। আইনের শাসনের দীর্ঘ পথচলায় এই ঘটনাটি বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র এবং জবাবদিহিতার ইতিহাসে এক অনিবার্য ও জটিল অধ্যায় হয়ে রইল।
বিষয় : শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক মামলা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
