মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন-এর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ে মিলিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জীবনরেখাখ্যাত তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (তিস্তা মহাপরিকল্পনা) বাস্তবায়নে চীনকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, জনস্বার্থে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর দল কেবল সমর্থনই দেবে না, বরং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতাও করবে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মাঝে ‘ফুডপ্যাক’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন-এর উপস্থিতিতে তিনি বলেন, “তিস্তা আজ উত্তরাঞ্চলের মানুষের কান্নায় পরিণত হয়েছে। আমরা এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের অবসান চাই। অতীতের রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে কেন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি, তা আজ সবার কাছে পরিষ্কার। আমরা সেই অচলবস্থার উত্তরাধিকার আর বহন করতে চাই না।”
ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত পানিবণ্টন চুক্তির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের হাতে নেওয়া এই ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ উত্তরবঙ্গের কৃষি ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক এবং আমাদের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি আছে। দেশের কল্যাণে আমরা যেকোনো উন্নয়ন অংশীদারের সঙ্গে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।”
অনুষ্ঠানে চীনকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এবং অকৃত্রিম উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। ১৯৭৬ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনালগ্ন থেকে চীনের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের মতো স্থাপনাগুলো আমাদের বন্ধুত্বের নিদর্শন। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে এই বন্ধুত্বের নিদর্শনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘হাইজ্যাক’ করা হয়েছিল। স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে দলীয় পরিচয় দেওয়া চরম অকৃতজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই ‘দখলদারি’ সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করে শফিকুর রহমান দাবি করেন, চীন কখনো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। তিনি বলেন, “অনেকে কিছু না দিয়েই হস্তক্ষেপ করতে চায়, কিন্তু চীন সবসময় নিঃস্বার্থ বন্ধুর পরিচয় দিয়ে চলেছে। তারা কেবল কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী।” তিনি চীনের সহায়তায় ১০০০ শয্যার দুটি হাসপাতাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হল নির্মাণের ঘোষণার উদাহরণ টেনে এই বন্ধুত্বের গভীরতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন-ও বক্তব্য দেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে চীনের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জামায়াত আমির আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে এই দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তায় উভয় দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
